পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
রাজনীতিতে সিঁদুরে মেঘঅসন্তোষ খোদ আওয়ামী লীগে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ঘোষণা বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী : মত আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদেরযাযাদি রিপোর্ট যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় -যাযাদিকোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রোববার হঠাৎ করে আগামী এক মাসের জন্য ঢাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় রাজনীতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, বিরোধী দলকে কোণঠাসা রাখতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিলেও এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাদের ভাষ্য, বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যস্থতায় সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের সংলাপের যে ক্ষীণ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, সভা-সমাবেশ বন্ধের এই সিদ্ধান্তে তা পুরোপুরি ভেস্তে যেতে বসেছে। সংলাপ নিয়ে রাজনীতিতে যে সুবাতাস বইতে শুরু করেছিল, তা এখন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ দিতে পারে। সরকারের এ ধরনের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে দেশের ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার, বিরোধী দলগুলো লাগাতার হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচির দিকেও ঝুঁকতে পারে।
যদিও রোববার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, 'সাধারণ সমাবেশ করার ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। এটা কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং জনগণের জিানমাল রক্ষার্থে পূর্বসতর্কীকরণ ব্যবস্থা।' কিন্তু
এ তথ্য বিবরণীতে আশ্বস্ত হতে পারেনি বিরোধী দলগুলো। তারা বলছে, বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে সরকারের প্রস্তুতি কী, তা ফাঁস হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াতসহ সোচ্চার আন্দোলনের মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির এ ব্যাপারে তাদের আন্দোলন কর্মসূচির নতুন ঘুঁটি সাজাতে তোড়জোড় শুরু করেছে। কারণ, শিগগিরই গোলাম আযমের রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শীর্ষ এই নেতার রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যর্থ হলে জামায়াতের রাজনীতি হুমকির মুখে পড়বে_ এমন বিবেচনায় তারা আগামী দু-একদিনের মধ্যেই সভা-সমাবেশের বিকল্প কর্মসূচি ঠিক করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শিবিরের একজন প্রথম সারির নেতা জানান, এমনিতেই তারা দেশের কোথাও সভা-সমাবেশ করতে পারছেন না। যেখানেই তারা রাজপথে নামছেন, সেখানেই সরকার তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা নতুন কিছু নয়। অনেকদিন ধরেই এ নিষেধাজ্ঞা অঘোষিতভাবে কার্যকর ছিল, এখন তা ঘোঘিত হয়েছে মাত্র। এতদিন এ নিষেধাজ্ঞা শুধু তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, এখন তা সবার জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে।
এদিকে, সভা-সমাবেশ বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য ঘোষণার পর বিএনপি নেতারা তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও এ ব্যাপারে দল এখনো কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে জোটের নেতারাও এতে অংশ নিয়েছেন। এ ব্যাপারে ১৮ দলীয় জোটের বাইরে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে বিকল্পধারার নেতা মাহী বি চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রোববার রাতে বৈঠক করেছেন। এছাড়া এ বিষয়ে কূটনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। অন্য একটি সূত্র জানায়, সভা-সমাবেশের বিকল্প হিসেবে কী ধরনের কর্মসূচি নেয়া হবে, তা মোটামুটি ঠিক হয়েছে। কৌশলগত কারণে বিএনপির হাইকমান্ড বিষয়টি এখন গোপন রাখতে চাইছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হরতাল, অবরোধ ও সমাবেশের নামে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের জড়ো করে সহিংস তা-ব চালানোর ঘটনায় নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই সরকারকে হার্ডলাইনে যেতে হচ্ছে। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে বিরোধী দলগুলো যে অভিযোগ তুলেছে, তা ভিত্তিহীন দাবি করে ওই কর্মকর্তা জানান, মুষ্টিমেয় রাজনীতিকের অধিকারের চেয়ে সরকারের কাছে মহানগরীর সোয়া কোটি মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেপিআই) নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় সাধারণ মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার খর্ব হচ্ছে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা জানান, জনগণের স্বার্থেই আগামী এক মাস ঢাকায় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরো বাড়ানো হতে পারে। তবে ছোটখাটো রাজনৈতিক দলগুলোকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুধু সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েই সরকার বসে থাকছে না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এজন্য র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগাম নির্দেশনা দিয়েছে।
সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির এ সিদ্ধান্ত আকস্মিকভাবে নেয়া হয়নি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করেই সরকার এ পথে পা বাড়িয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোন আইনে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যাবে, সেই দিকগুলো আগেই খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এ সম্পর্কে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন জানান, সরকার কী কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল, তা বোধগম্য নয়। সরকার যে কারণটি উল্লেখ করেছে, তা সঠিক কারণ হতে পারে না। রিলিফের কাজের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে না। ঝড় এসেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে; এখন দিনাজপুর দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা, সেখানে সভা নিষিদ্ধ হতে পারে না। অতীতে দেশে এর চেয়েও বড় বড় ঝড় ও দুর্যোগ এসেছে। কিন্তু সেগুলোর জন্য কখনো সভা-সমাবেশ বন্ধ করা হয়নি। সভা-সমাবেশ করা সংবিধান বর্ণিত মৌলিক অধিকার। কেউ আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে; কিন্তু সারাদেশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে না। সরকারের উচিত বিষয়টি জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট করা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান জানান, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে পুলিশ তা করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সুযোগও আইনে রয়েছে। কিন্তু তা সব সময় চলতে পারে না। সভা-সমাবেশ কিংবা বক্তৃতা দেয়ার অধিকার সবার আছে। এতে বাধা সৃষ্টি করা ঠিক হতে পারে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কখনোই আসতে পারে না। এমনকি তাদের মুখ থেকে এ ধরনের কথা বের হওয়াটাও অতি আশ্চর্যের বিষয়। মানুষ খুব শিগগিরই মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে অমানবিক এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজমেরী এসএ ইসলাম জানান, মিছিল-সামবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার রাজনৈতিক সংকটের 'নতুন ডাইমেনশন' তৈরি করেছে। খুব দ্রুতই অগি্নস্ফুলিঙ্গের ন্যায় এর জবাব আসবে।
তিনি আরো জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্টিম রোলার চালিয়ে জনগণের অধিকার হরণ করছে। সর্বশেষ মিছিল-সমাবেশ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে গণতন্ত্রের নূ্যনতম অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পরিবর্তন না হলে শিগগিরই দেশ গভীরতম সংকটের দিকে যাত্রা করবে।
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করলেও তা মূলত তত্ত্বাবধায় ইস্যুতে চাঙ্গা হয়ে ওঠা আন্দোলন ঠেকানোর স্থূল কৌশল বলে বিরোধী দলগুলো মন্তব্য করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন, তবে হতবাক হননি। কারণ, ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক সরকার দেশ চালাচ্ছে। আজ তারা বিশ্ববাসীর কাছে সেটাই প্রমাণ করল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনো নির্বাচিত সরকারের অধীনে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। এ নিষেধাজ্ঞা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার শামিল। জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই। এটি বেআইনি, অগণতান্ত্রিক ও সংবিধান পরিপন্থী একটি সিদ্ধান্ত। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ ঘোষণার ফলে দেশের সংঘাত ও অনিশ্চয়তা অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকারের উচিত হবে, অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা। তা না হলে তাদের এক ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, এই সরকার দেশের মানুষকে বোকা মনে করছে। তারা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে একটার পর একটা ইস্যু সৃষ্টি করে তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার অশুভ প্রচেষ্টা চলাচ্ছে। অতীতের ইতিহাস প্রমাণ করে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে স্বৈরাচারী পন্থায় মামলা-হামলা দ্বারা কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, তাদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যন্ত করুণ অবস্থায় ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে। তাই আশা করব, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দেশের মানুষের সব ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং বিরোধী দলকে নির্যাতন দ্বারা ক্ষমতায় থাকার অশুভ প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করে গণতান্ত্রিক পথে এসে দেশকে সংঘাতময় পরিবেশ থেকে রক্ষা করবে।
এদিকে, রাজধানীতে সভা-সমাবেশে 'নিষেধাজ্ঞা' আরোপের সিদ্ধান্ত যে সঠিক হয়নি, তা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই স্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, 'আমি মনে করি, রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। সভা-সমাবেশ বন্ধ করে এই সমস্যার সমাধান হবে না।'
দলের অনেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে অটোক্র্যাটিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রসঙ্গত, মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের ৫ মের সমাবেশ ও অবস্থানের পর থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ এ পর্যন্ত বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়নি। ছোট সমাবেশ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির ওপরও কৌশলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত স্থানগুলোতে সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করতে পূর্বানুমতি লাগবে। কিন্তু অনুমতি চাওয়া হলে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এমনকি কয়েকটি স্থানে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পুরানা পল্টন ও নয়া পল্টন এলাকায় সমাবেশের ওপর কোনো লিখিত নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও গত ১৩ মে একবার এবং ১৬ মে দ্বিতীয়বার সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েও পায়নি বিএনপি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে তাদের অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। প্রায় দুই মাস আগে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনকে। নাস্তিক বস্নগার এবং একই সঙ্গে হেফাজত ও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ১১ দফা দাবিতে ছিল তাদের ওই সমাবেশ। ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তরিকত ফেডারেশনকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সামনে। শেষ পর্যন্ত ওই অনুমতিও বাতিল করা হয়। সর্বশেষ ১৩ মে তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় মৎস্য ভবনের সামনে। কিন্তু সমাবেশের সব আয়োজন সম্পন্ন করার পর দুই দিন আগে তাদের অনুমতি বাতিল করা হয়। ১৮ মে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল সুনি্ন ঐক্য ফোরামকে। তাদের সমাবেশও পাল্টা চিঠি দিয়ে বাতিল করে দিয়েছে পুলিশ।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin