পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
নারীর অধিকারপ্রতিদিনের পত্রিকার পাতা উল্টাতে গিয়ে চোখে পড়ে একটা শিরোনাম। নারী কি স্বাধীন না পরাধীন। নারীর কি মেরুদ- আছে না কি অন্যের ওপর ভর করে চলতে পছন্দ করে। নারী কি চলমান স্রোতের মতো না কি জোয়ারের মুখে বাধা দেয়া কোনো বালির বস্তা। নারী কি মমতাময়ী জননী না কি নারী প্রজাবতী ও প্রজায়নী যার মানে সন্তানযুক্ত, সন্তান প্রসবকারী। মনে হয় সত্যিই তাই।রহিমা আক্তার প্রতিদিনের পত্রিকার পাতা উল্টাতে গিয়ে চোখে পড়ে একটা শিরোনাম। নারী কি স্বাধীন না পরাধীন। নারীর কি মেরুদ- আছে না কি অন্যের ওপর ভর করে চলতে পছন্দ করে। নারী কি চলমান স্রোতের মতো না কি জোয়ারের মুখে বাধা দেয়া কোনো বালির বস্তা। নারী কি মমতাময়ী জননী না কি নারী প্রজাবতী ও প্রজায়নী যার মানে সন্তানযুক্ত, সন্তান প্রসবকারী। মনে হয় সত্যিই তাই। সন্তানের সঙ্গে মায়ের ৯ মাস ১০ দিনের বিন্দু বিন্দু বড় হওয়া। মা তার সেই ভ্রূণটাকে যত্নে বড় করে তোলে। আস্তে আস্তে নিজের অস্তিত্বের বাঁধনের সঙ্গে জড়িয়ে রাখে। প্রাচীনকালে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতার কারণে প্রাচীন পুরুষ তার সন্তানের গর্ভধারিনীকে দেবীর আসনে বসাতেন। এই ক্ষমতায় নারীর জন্যই।
সন্তান জন্ম মানে বংশ বৃদ্ধি, সন্তান জন্ম মানে নিজের বংশের ঐতিহ্য তুলে ধরা। অথচ এ নারী জাতিকে সমাজ কোথায় নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ। নিজেদের ক্ষমতায় অর্জন করা এই দেশ, লাখো জনতার জয়ের এই দেশ। ৩০ লাখ শহীদের আত্মার এই দেশ। ৪ লাখ নারীর সংগ্রামের এই দেশ। এই দেশে এমন আছে যারা নিজের পিতামাতার দেয়া নামটাও ওরা বয়ে নিয়ে বেড়াতে পারে না। যখন দেশ স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয় তখন নারীরা দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে অথচ পরে তাদের কি হয়।
যে দেশের নারীরা ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে অন্ধকার রাতে দল বেঁধে পুরুষের পোশাক পরে জনসভা মিছিল-মিটিং করে। যে যুদ্ধের স্বীকার আমাদের নারীরা এক সময় এ রাষ্ট্রের জন্য দায় হয়ে পড়ে সেই বীর সন্তানরা। রাষ্ট্র স্বাধীন হলো, আর এই নারীদের ছুড়ে ফেলে দিল নাম পরিচয়হীন অন্ধকারে। সত্যি নারী তুমি কী? এতটি বছর পর দেশ নারীকে কি দিয়েছে। এতগুলো নারী দিবস পর বিশ্ব আজ নারীকে কী দিয়েছে।
আজো নারীর কথায় আমার বলে কিছু নেই। ঈদের সময় বাসে আলাপ হয় অনেকের সঙ্গে। কে, কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করায় কেউ বলে বাবার বাড়ি, কেউ বলে শ্বশুরবাড়ি, কেউ বলে স্বামীর বাড়ি। আরে তবে কি কোনো নারী, কোনো নারী নামক জাতীয় বাড়িতে যায় না। সত্যিই তো তাই কেউ বলে না মায়ের বাড়ি কেউ বলে না শাশুড়ির বাড়ি বা নিজের বাড়ি। কর্ম দক্ষতায় ও প্রচেষ্টায় নারী রাষ্ট্রের সম্পদ হয়েছে। দিগ-দিগন্তে নারীরা সাফল্যের জন্য দেশ ও বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে অথচ নারীর বলতে কিছু নেই। নারীরা এখন শুধু জয়িতা। অর্থাৎ তারা জয় করছে। কিন্তু তারা নিজের বলে দাবি করতে পারছে না। আমাদের দেশ একটি পশ্চাৎপদ এখানে নানা সমস্যা মোকাবেলা করে মানুষকে এগোতে হয়। তার মধ্যে নারীর সমস্যাগুলো তো আরোই কঠোর। আমাদের দেশের নারীদের জন্য অগ্রগতির পথ কখনো সমতল ছিল না। বিকৃত রুচি সামাজিক কুসংস্কার আর গোঁড়ামির কবলে নারীকে সম্মান ও পথ দেখানোর দৃষ্টিভঙ্গিটা আলাদা হয়ে আসায় বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায়নটা অনেকটা আলাদা হওয়া সত্ত্বেও নারীকে মানুষ ভাবার দৃষ্টি সীমানার কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
স্বাধীনতার পর থেকে দেশ শাসনের প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় ক্ষমতার সিংহাসনে ছিল নারী নেত্রীরা। কিন্তু তারা কেউ নারীকে মানুষ ভাবার কাজ করেনি। আজ যে মুহূর্তে বাংলাদেশের নারীরা নিজেদের অক্ষমতা নির্যাতন আর পণ্যের পণ্য হওয়ার কথা বলছে তখন বাইরের দেশগুলো হাসছে। যে দেশের প্রধান আসনে নারী সে দেশের নারীর কোনো বাড়ি নেই। যে দেশের মানবাধিকার কর্মীরা নারী সে দেশের নারীর ফতোয়ার দোররায় রক্তাক্ত হচ্ছে মাটি।
এই তো এক লেখক বন্ধু প্রশ্ন করলেন 'মানবাধিকার বলতে কি বোঝ? উত্তরে বললাম আমার মনের কথা আমাদের মনের কথা মানুষ হিসেবে মানবিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। সর্বস্তরে মানুষে মানুষে শান্তি, নেত্রী ও সৌভ্রাত্বের বন্ধন গড়ে তুলে একত্রে বসবাস করাই দেশে মানবাধিকার বলতে কিছু আছে, মানবাধিকারের ব্যক্তিরা কথা বলতে মানবসমাজের জন্য, মানবের জন্য সেখানে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ থাকবে না।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin