পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
ফসল ঘের রাস্তাঘাট বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি : জলাবদ্ধতাপটুয়াখালীতে ৭৫৪০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্তকলাপাড়ায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি -যাযাদিপটুয়াখালী/কলাপাড়া সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য মতে, জেলার ৭৫৪০ ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত এবং ১৮২৩৮ ঘরবাড়ি অংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭০ হাজার ৪০৯ জন লোক কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় কোথাও কোথাও পুরোপুরি ও অংশিক বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। জেলায় কৃষি ফসলের মধ্যে ডাল, বাদাম, মরিচ ও সূর্যমুখী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ রোড এলাকায় এখনো হাঁটুজল জমে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পার্শ্ববর্তী স্কুল, কলেজ এবং আশ্রয় কেন্দ্রে এখনো মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। বুধবার রাত থেকে বিরামহীন বৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে পানি ঢুকে কয়েক হাজার মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব মানুষ কলাগাছের ভেলা তৈরি করে যাতায়াত করছে। এছাড়া শতাধিক ঘের এবং পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলার রাঙ্গাবালি, কলাপাড়া ও গলাচিপা উপজেলায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় ৭২ ইউনিয়ন রয়েছে। এদিকে সতর্কীকরণ সংকেত নামিয়ে নেয়ার পর উপকূলের বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টার ও উঁচু ভবনে আশ্রয় নেয়া মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। টানা দুদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা-পটুয়াখালী ও অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, ইতোমধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। পটুয়াখালী শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে মহাসড়কের ওপর ভেঙে পড়া গাছ অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়াও শুক্রবার সন্ধ্যানাগাদ পটুয়াখালীর সব রুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে। ঘূর্ণিঝড় মহাসেন সম্পর্কে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আগেই জেলায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শান্তিরঞ্জন বৈদ্য জানান, ঝড়ের সতর্কতা জারি করার পরই মন্ত্রণালয় থেকে ৮ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৭৪ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ সাপেক্ষে মন্ত্রণালয়ে আরো বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হবে।
সিডর এবং আইলায় কলাপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ল-ভ- করে দিয়েছে। জলোচ্ছ্বাস না হলেও গাছ ভেঙে এবং ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষ পার্শ্ববর্তী স্কুল, কলেজ এবং আশ্রয় কেন্দ্রে এখনো মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, বুধবার রাত থেকে বিরামহীন বৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে পানি ঢুকে কয়েক হাজার মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সব মানুষ কলা গাছের ভেলা তৈরি করে যাতায়াত করছে। এছাড়া শতাধিক ঘের এবং পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। লালুয়া ইউনিয়নের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণ পানি ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তালিকা তৈরির কাজ করছে। এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৩ জন বলা হলেও বেসরকারি হিসেবে ৭ জন।

মিরসরাইয়ে ৩৫০টি
কাঁচাঘর বিধ্বস্ত
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের তা-বে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৩৫০টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার ওপর দিয়ে দমকা বাতাস ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝড়োহাওয়াসহ মাঝারি বৃষ্টি ছিল। এ সময় সমুদ্র ও নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। চরম উৎকণ্ঠায় দিন কেটেছে উপকূলীয় অঞ্চলের দেড় লাখ বাসিন্দার। সাইক্লোন শেল্টারে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরে আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু ছিল। দিনভর নানা উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকলেও বিকালে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। উপজেলা প্রশাসনের ঘোষণার পর সন্ধ্যার দিকে আশ্রিতরা আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। এদিকে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে ঘরের চালা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাঈল জানান, ঝড়ে ওমচানপুর, ইছাখালী, মঘাদিয়া, সাহেরখালী, কাটাছরা মিঠানালা ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০টি কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর মিরসরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে সৃষ্ট ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, মহাসেনে প্রাণহানি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। ৭৮টি ভলানটিয়ার টিম সক্রিয় ছিল। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন।

হাইমচরে ১০ কোটি টাকার ফসলহানি
চাঁদপুর প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ায় হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা সয়াবিন, মরিচ, পান ও পাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার সয়াবিন ফসলের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যাবে।
দমকা হাওয়া ও টানা বৃষ্টির ফলে চরাঞ্চল, নদীতীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের সয়াবিন, মরিচ, ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত সয়াবিন চাষি আব্দুল গাজী, মরিচচাষি মুনসুর গাজী, ধানচাষি লতিফ মাল ও পানচাষি লতিফ দেওয়ান জানান, বৃষ্টির ফলে তাদের ফসল পানির নিচে। একদিন পরও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাদের ফসলি জমি পানিতে ডুবেছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজান গাজী জানান, সয়াবিন, ধান, মরিচ, পানসহ ৮ শতাধিক চাষি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল গাজী জানান, তার এলাকার ১ কোটি টাকার ফসল পানির নিচে। নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন রতন জানান, বৃষ্টির ফলে সয়াবিনের রাজধানী মধ্যচরে কোটি টাকার সয়াবিন পানির নিচে। অন্যান্য ফসলের একই অবস্থা। হাইমচর ইউনিয়নেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা
মতলব (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে ভারী বর্ষণের কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষক পাকা বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
শুক্রবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে উপজেলার কলাকান্দা, মিলারচর, মাথাভাঙ্গা, পাঁচআনী, নাউরী, হলদিয়া, লুধুয়া, একলাশপুর, জোড়খালী, শিকিরচর, ছেংগারচর, কেশাইরকান্দি, জীবগাঁও, পাঠান বাজার, ঝিনাইয়া, মরাদন, ইসলামাবাদ, অলিপুর, নয়াকান্দি, সুজাতপুর ঠাকুরচর, রুহিতার পাড়, হানির পাড়, বদুরপুর, বাগানবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, দুর্গাপুর, লবাইরকান্দি, ইসলামাবাদ, ফতেপুরসহ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে পাকা বোরো ধান, সবজি, বীজতলা, বগি পাট, আখ, ফল ও কাঠ গাছের বাগান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত বৃষ্টির পানি না সরলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
 

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: data_files/483/news_hit.xml:107: parser error : expected '>' in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: <news_hit_6733>>15</news_hit_67334> in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: ^ in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Fatal error: Call to undefined method stdClass::asXML() in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 15