পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
দুর্যোগেও নক্ষত্র দূরত্বে এমপিরাঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা পেয়েও এলাকায় যাননি ওবায়দুল কাদের, ফজলুল আজিম, একেএমএ আউয়াল, ডা. আনোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ শাহ আলম, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, গোলাম মাওলা রনি, মাহবুবুর রহমান, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও গোলাম সবুর টুলু। একমাত্র ব্যতিক্রম একরামুল করিম চৌধুরীশরিয়ত খান বার বার নির্দেশ দিয়েও এমপিদের নিজ এলাকায় পাঠাতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি 'মহাসেন'-এর মতো ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও এলাকার মানুষ তাদের পাশে পায়নি।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে থেকে 'মহাসেন'-এর আগমনবার্তা ঘোষিত হলেও নিজ এলাকায় যাননি বেশিরভাগ এমপি। তারা এলাকার দুর্যোগের চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন ঘরে বসে টেলিভিশনের পর্দায়। এই তালিকায় দায়িত্বশীল দুজন মন্ত্রীও রয়েছেন।
সূত্র জানায়, আগেও বিভিন্ন দুর্যোগ এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সময় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে এলাকায় না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে যখন সারাদেশে জামায়াত-শিবির তা-ব চালায়, তখনো এলাকামুখী হননি সরকারি দলের এমপিরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমপিরা মাসে দুই-তিন দিন এলাকায় থাকলেও সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। এ সময় তারা ব্যস্ত থাকেন অনুগত নেতাকর্মী ও ক্যাডারদের নিয়ে। এছাড়া মাসের বাকি সময় তারা ঢাকায় বিভিন্ন তদবির এবং নিজ ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে বিপদের সময় সুখ-দুঃখের কথা শোনানোর মতো কাউকে খুঁজে পায় না এলাকাবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় 'মহাসেন'-এর আঘাতে উপকূলীয় এলাকা ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা; পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ভা-ারিয়া ও সদর আসন; বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী; পটুয়াখালীর কলাপাড়া, রাঙাবালি ও গলাচিপা এবং নোয়াখালীর হাতিয়া, কবিরহাট ও সদর আসন কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মারা গেছে অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। আবার সেসব এলাকায় বেশিরভাগ সংসদ সদস্য সরকারদলীয়। কিন্তু দুর্যোগের সময় তারা এলাকায় ছিলেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে একজন এমপি দুর্যোগের দিন এলাকায় ছিলেন। তিনি হলেন নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি ঘটনার আগে ও পরে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে উদ্বিগ্ন জনগণকে তাদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেন।
সূত্র জানায়, একরামুল করিম চৌধুরী যখন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তখনো ঢাকায় অবস্থান করেছেন তার পাশের আসনের সংসদ সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই অবস্থা সংসদে আলোচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের। তিনিও এলাকায় যাননি। অথচ তার এলাকায় (হাতিয়া) ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
পিরোজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল (সাইদুর রহমান) নিজ এলাকা দেখভালের দায়িত্ব স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে দিয়ে নিজে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ার হোসেন এবং ভা-ারিয়ার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমও এলাকায় ছিলেন না।
ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ঘূর্ণিঝড় চলে যাওয়ার এক দিন পর শুক্রবার ঢাকা থেকে এলাকায় গিয়ে পেঁৗছেন। তিনি গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ভোলার ৪টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার এলাকা। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার দিনে এই এমপি নিজ এলাকায় উপস্থিত না থাকলেও গতকাল সেখানে গিয়ে জনগণের খোঁজ-খবর নেন। বাকি ৩টি আসনে ক্ষতির পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম হলেও গতকাল পর্যন্ত নিজ এলাকায় যাননি দুটি আসনের এমপি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদ এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন। অন্যদিকে, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও নিজ এলাকায় দুর্গতদের পাশে গতকাল পর্যন্ত যাননি।
টকশোতে সদা তৎপর ও 'হক' কথার দাবিদার পটুয়াখালীর গলাচিপা আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম মাওলা রনিও দুর্যোগের সময় এলাকায় ছিলেন না। তার পাশের আসনের পটুয়াখালীর কলাপাড়া-রাঙাবালি আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুবুর রহমান; বরগুনার আমতলী-তালতলী আসনের সংসদ সদস্য ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভুও ঢাকায় ছিলেন। তার পাশের বামনা-বেতাগী আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলু ঝড়ের দুই দিন আগে সৌদি আরবে যান ওমরাহ পালন করতে।
এ ব্যাপারে ভা-ারিয়ার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম জানান, উপ-কমিটির মিটিং থাকায় তিনি এলাকায় যেতে পারেননি। আর দুর্যোগ তো হঠাৎ করেই এসেছে। তিনি ঢাকা থেকেই নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আর এলাকায় গেলেও তেমন কোনো লাভ হতো না। তাছাড়া এখন সব ব্যবস্থা তো মোবাইল ফোনেই করা যায়। তাই তিনি মোবাইল ফোনেই সব সময় খোঁজ-খবর নিয়েছেন।
সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি জানান, দুর্যোগের সময় এমপিদের এলাকায় কাজ কী? তিনি মনে করেন না, এ সময় এমপিদের এলাকায় থাকার দরকার আছে। সব জায়গায় এমপিদের থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। হাজারো নেতাকর্মী আছে, প্রশাসন আছে। তারা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।
তিনি আরো জানান, তিনি এলাকায় থাকলেও তো দুর্যোগ ফেরানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তরা ঠিকমতো সহযোগিতা পেয়েছে কিনা, সেটাই দেখার বিষয়। সেই খোঁজ-খবরই তিনি নিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া-রাঙাবালি আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুবুর রহমান এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, এসব ম্যানেজ করা উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম জানান, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ রয়েছে। এ কাজ এমপিদের নয়। এমপিরা এ কাজে সম্পৃক্ত হলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে যেসব ক্ষমতাশালী এমপি এসব কাজে জড়িত হয়েছেন, সব জায়গাতেই ঝামেলা হয়েছে। তাছাড়া এমপিদের কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা।
এখন তিনি এলাকার (শুক্রবার রাত ৮টায়) পথেই রয়েছেন জানিয়ে আজিম বলেন, তার এলাকা (হাতিয়া) উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় আগে থেকেই সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। সেখানে গিয়ে কোনো কাজ হতো না। তাদের যা কাজ, তা হলো সবকিছু ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করা। আর এখন তো মোবাইল ফোনের যুগ। মোবাইল ফোনেই সর্বদা খোঁজ নিয়েছেন তিনি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, চেয়ারম্যান এবং নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরেও খোঁজ নিয়েছেন কিছুক্ষণ পরপর।
 

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: data_files/483/news_hit.xml:107: parser error : expected '>' in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: <news_hit_6733>>15</news_hit_67334> in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: ^ in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Fatal error: Call to undefined method stdClass::asXML() in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 15