রোববার, মে, ১৯, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৫, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৮ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৬ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
অদম্য মেধাবীহতাশার মেঘে ঢাকা ওদের ভবিষ্যৎস্বদেশ ডেস্ক ![]() নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এরা। খেয়ে না খেয়ে স্কুলে গেছে। কখনো কখনো নিজে কাজ করে পড়ার খরচ জুগিয়েছে। কেননা, তাদের কারো বাবা দিনমজুর, কারো বাবা ভ্যানচালক কিংবা কারো বাবা প্রান্তিক কৃষক। সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরানোর অবস্থা। তবু হাল না ছেড়ে অদম্য ইচ্ছা আর সাহসকে পুঁজি করে তারা সাফল্যের প্রথম ধাপ পেরিয়েছে। এখন বিত্তবানদের একটুখানি সহায়তাই এদের পাথেয়। তাদের সহায়তা এদের এক দিন অনেক দূর নিয়ে যাবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এরকম কয়েকজনকে নিয়ে খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা :আসাদুল্লাহ : প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে লেখাপড়া শুরু করেছিল আসাদুল্লাহ। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে নিজের পড়ার ফাঁকে প্রাইভেট পড়িয়ে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে সে। তবে কলেজে ভর্তি আর পড়ালেখার খরচ নিয়ে চিন্তিত আসাদুল্লাহ। ভাটপাড়া গ্রামের গোলাম হোসেন ও মর্জিনা বেগমের ছেলে আসাদুল। বাবার জমি নেই। খরচ জোগাতে না পারায় বেশকবার তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মা মর্জিনা তা হতে দেননি। হাঁস-মুরগি পালন করে তা বিক্রি করে কোনোমতে এতদিন লেখাপড়ার খরচ জোগাতে সহায়তা করেছেন তিনি। আসাদুল্লাহকেও পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যকে প্রাইভেট পড়াতে হয়েছে। মজনুর রহমান আকাশ গাংনী সিয়াম মোল্লা ও সাকিল শিকারী : সিয়াম মোল্লা ও সাকিল শিকারী উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। কঠোর অধ্যবসায় আর অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য। মাহমুদপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী মোল্লাবাড়ির দিনমজুর হাছেন মোল্লার ছেলে সিয়াম মোল্লা। হাছেন মোল্লা অনেক কষ্টে ছেলেকে এ পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়েছেন। অভাবের সংসারে দুই ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে সিয়াম সবার বড়। সংসারে সারা বছর অভাব-অনটন লেগেই থাকে। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বাবার বদলি হিসেবে তাকে প্রায়ই কাজ করতে হয়। হাছেন মোল্লা বলেন, অনেক কষ্টে ছেলেটি এসএসসি পাস করল। বাকি পড়াশোনাটুকু কিভাবে করাব, ভেবে কূল পাই না। অন্যদিকে, সাকিল শিকারী মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবাসদী এলাকার করিম শিকারীর ছেলে। করিম শিকারী মাহমুদপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি। অভাবের সংসারে দুই ভাই এবং এক বোনের মধ্যে সাকিল বড়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পড়িয়ে অনেক কষ্টে সে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছে। করিম শিকারীর সামান্য বেতনে পরিবারের সবার মুখে দুই বেলা আহার জোটে না। তবুও দারিদ্র্যের কাছে হারে মানেনি সাকিল শিকারী। সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। রফিকুল ইসলাম রানা আড়াইহাজার লিমা আক্তার : সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা জেসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে লিমা আক্তার। সে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দুয়ারপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হযরত আলীর মেয়ে। মা মরিয়ম বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের বড় মুন্না ষষ্ঠ এবং ছোট ভাই মামুন দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। অর্থের অভাবে প্রাইভেট ও কোচিংয়ে যেতে পারেনি লিমা। শুধু ক্লাস আর কঠোর পরিশ্রম করে এ ফল করেছে সে। শিক্ষকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা আর সহযোগিতা লিমার প্রেরণা বলে জানায় সে। জিল্লুর রহমান ম-ল পলাশ সাদুল্যাপুর ফারুক মিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজমিস্ত্রির জোগালি (সহকারী) ফারুক মিয়া এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে অভাব-অনটন। ফারুক মিয়া আশুগঞ্জ উপজেলার কামাউড়া শহীদ স্মৃতি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে এই ফল অর্জন করে। সে সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামের দিনমজুর আইয়ূব আলী ও জোহরা বেগমের ছেলে। দুই ভাই এবং ৫ বোনের মধ্যে সে সবার বড়। অভাব-অনটনের সংসারে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারেননি ফারুকের বাবা। তাই সে বাধ্য হয়ে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালায়। ফল ঘোষণার দিনও ফারুক জোগালির কাজ করেছে। ফারুক জানায়, টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেনি সে। নিজের ইচ্ছা আর শিক্ষকদের সহায়তা তার ভালো ফলাফলের কারণ বলে সে জানায়। বাহারুল ইসলাম মোল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রোজিনা খাতুন : সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বস্তুল ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে রোজিনা খাতুন। তাড়াশ উপজেলার নিভৃত পল্লী কুসুম্বী গ্রামের ভূমিহীন দিনমজুর সাইদুর রহমানের মেয়ে রোজিনা খাতুন। প্রতিদিন ৮ মাইল রাস্তা পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করেছে। কোনোদিন সকালে খেয়ে স্কুলে গেছে আবার কোনোদিন না খেয়ে স্কুল করেছে। তবু কোনোদিন স্কুল ফাঁকি দেয়নি। ঝড়বৃষ্টিও তার স্কুলে যাওয়া থামাতে পারেনি। বাবা একটা ছাতাও কিনে দিতে পারেননি তাকে। মা মরিয়ম খাতুন সারাদিন অন্যের বাড়ি কাজ করে রাতে যে খাবার নিয়ে আসতেন, তাই দুই সন্তানকে ভাগ করে খাওয়াতেন। দিনমজুর বাবাকে কাজ না পেয়ে অনেক দিনই বেকার থাকতে হত। তবে সব বাধাকে পেছনে ফেলে সফলতাকে ছিনিয়ে এনেছে সে। এজন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশ্বিনী কুমার ভৌমিকসহ সব শিক্ষকের প্রতি সে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। মির্জা ফারুক আহমেদ তাড়াশ রেখা : অন্যের নিকট তেকে ধার করা বই পড়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ভ্যানচালকের মেয়ে রেখা। সে রংপুর সদরের মমিনপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ ফল করেছে। রেখার বাড়ি রংপুর সদরের মমিনপুন ইউনিয়নের দক্ষিণ মমিনপুর লস্করপাড়ায়। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে রেখা দ্বিতীয়। বড় ভাই শাহাদৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট বোন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে। রেখার বাবা আনারুল ইসলাম ভ্যান চালিয়ে যে টাকা রোজগার করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালান। তাই সব বইও কিনে দিতে পারেননি মেয়েকে। তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষার আগে গ্রামের অনেকের নিকট থেকে সাহায্য নিয়ে মেয়ের ফরম পূরণ করেছেন। এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। আবেদুল হাফিজ রংপুর
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট কাটবে বলে কি
মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |