পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচেজলাবদ্ধতাস্বদেশ ডেস্ক চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত -যাযাদিমেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, ঝালকাঠির রাজাপুর এবং হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে শত শত হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকার ধান পচে গেছে। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
মতলব (চাঁদপুর) : কয়েকদিনের অব্যাহত প্রবল বর্ষণে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের এক-তৃতীয়াংশ পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা বুক সমান পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন। আবার কারো ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কেটে আনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। প্রতি বছর এভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সেচ প্রকল্পটি কৃৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। গত চার দিন ধরে অব্যাহত বর্ষণে ছেঙ্গারচর পৌরসভার দুলাল কান্দি, ছোট মরাদোন, বড় মরাদোন, ঠাকুরচর, কেশাইর কান্দি, কলাকান্দা, মিলারচর, মাথাভাঙ্গা, পাঁচআনি, নাউরী, হলদিয়া, লুধুয়া, এখলাছপুর, জোড়খালী, শিকিরচর, ছেঙ্গারচর, জীবগাঁও, পাঠান বাজার, ঝিনাইয়া, ইসলামাবাদ, অলিপুর, নয়াকান্দি, সুজাতপুর ঠাকুরচর, রুহিতার পাড়, হানির পাড়, বদুরপুর, বাগানবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, দুর্গাপুর, লবাইরকান্দি, ইসলামাবাদ, ফতেপুরসহ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে পাকা বোরো ধান, সবজি, বীজতলা, বগি পাট, আখ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও কৃষকের পাট, তিল, মরিচ, মুগ ডাল ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বৃষ্টির পানি ঠিকমতো না টানা ও পানি টানার ক্যানেল সংস্কার না করার কারণে তাদের এ সর্বনাশ হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পে এবার ৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-২৯ ধান, সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ধানের চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ব্রি-২৯ ধান ইতোমধ্যে কৃষক কেটে ঘরে তুলেছেন। আর ব্রি-২৮ ধান মাঠে থাকায় তা এখন পানির নিচে রয়েছে। ঠাকুরচর গ্রামের কৃষক আবুল মেলকার জানান, প্রকল্পটি তৈরি হওয়ার পর থেকে আমরা বর্ষা আসলেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে মরি। আমাদের চাষের জমি তলিয়ে ফসল নষ্ট হয়। পাউবো কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হলেও এ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল কাইয়ুম মজুমদার জানান, সেচ প্রকল্পের জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পাউবো কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পানি সরানোর কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকার কারণে এবং পাউবোর অনেক সেচ ক্যানেল বেদখল ও খালগুলো কচুরিপানা দিয়ে আবদ্ধ থাকায় দ্রুত গতিতে বৃষ্টির পানি সরানো চাচ্ছে না।
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) : বৃষ্টির পানিতে হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৭২০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। পানি না সরায় ১৫৪৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ইতোমধ্যে পচে গেছে। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সমপ্রতি হবিগঞ্জে অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানি হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে এসে জমাট হয়। এর ফলে এসব অঞ্চলের জমির বোরো ধান পানির নিচে পড়ে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি সরছে না। ফলে ফলন ভালো হলেও, কৃষকরা এ ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। অনেকে মনে করেন, এর প্রভাব পড়বে, আউশ ধানের চাষাবাদের উপর। বোরো ধানের এ অবস্থা দেখে কৃষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। জেলার শায়েস্তাগঞ্জে ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি নানা ধরনের ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার তোফায়েল আহমেদ জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় উপজেলার পুরাসুন্দা, নছরতপুর, বারলাড়িয়া, লাদিয়া, মড়রা, কাজিরগাঁও, কদমতলী, ডাকিজাঙ্গাল এলাকার প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ১২৫ হেক্টর জমির ধান পচে গেছে। বাকি ধানও পচে যাচ্ছে।
রাজাপুর (ঝালকাঠি) : পূর্ণিমার জোরের প্রভাব ও তিনদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতে ঝালকাঠির রাজাপুরে বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া পাকা বোরো ধান ও সদ্য রোপিত আউশ ধান তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশিরভাগ ঘরে তোলা হলেও বাকি ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। সদ্য রোপিত উপজেলার ৫৫ হেক্টর জমির আউশ ধানও ডুবে গেছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin