শনিবার, মে, ২৫, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৪ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪২ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
সাভার ট্র্যাজেডিএক মাস পরও নিখোঁজদের
জন্য ব্যাকুল স্বজনরাসাভার প্রতিনিধি সাভারে 'রানা প্লাজা' ধসে পড়ার এক মাস পূর্ণ হলো শুক্রবার। এখনো নিখোঁজদের ফিরে পেতে স্বজনরা ব্যাকুল হয়ে ধরনা দিচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। বিজিএমইএ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিখোঁজদের তালিকা তৈরির জন্য সাভার উপজেলায় একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে। ১৪ মে থেকে সেখানে মানুষ স্বজনের নাম তুলছেন নিখোঁজ তালিকায়। সেখান থেকেই কেউ কেউ যাচ্ছেন সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে। জীবিত না হোক, অন্তত লাশটির যদি হদিস মেলে_ এই আশা স্বজনদের।গতকাল সকালেও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া রানা প্লাজার ফাঁকা স্থানটিতে গিয়ে দেখা যায়, উৎসুক মানুষের ভিড়ে অনেক স্বজন হাতে ছবি নিয়ে অসহায়ের মতো সেদিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছেন। সাভার মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, কন্ট্রোল রুমে নিখোঁজদের তালিকায় ৩ শতাধিক নাম লিপিবদ্ধ করেছেন স্বজনরা। যারা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন, তাদের একটি টোকেন দেয়া হচ্ছে। সেই টোকেন নিয়ে স্বজনদের মধ্যে কেউ কেউ থানায় এসে জিডি করছেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এ রকম ৯২টি জিডি করা হয়েছে। যেহেতু ডিএনএ রিপোর্টে মৃতদেহ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই স্বজনদের এত ব্যাকুলতা বলে মনে করেন ওসি আসাদুজ্জামান। বোন সালেহা বেগমের খোঁজ না পেয়ে গতকাল সকালেই সাভার থানায় জিডি করতে এসেছেন ভাই আব্দুর রহিম। সালেহা রানা প্লাজার তৃতীয় তলার একটি কারখানায় দুই বছর ধরে কাজ করতেন। মজিদপুরের এ-৬৫ মহল্লার বাড়ির ভাড়াটিয়া সালেহা ভবনধসের পর থেকেই নিখোঁজ। তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার কান্দাপাড়া মহল্লার আব্দুল গফুরের মেয়ে। আব্দুর রহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছি, নিখোঁজ তালিকায় নাম উঠিয়েছি, থানায় জিডি করেছি। কিন্তু এক মাসেও কেউ আমার বোনের হদিস দিতে পারেনি। এখন কোথায় যাব বলতে পারেন?' একই প্রশ্ন পোশাক শ্রমিক এবাদুল হকের বাবা হাফিজুল ইসলামেরও। এবাদুলের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার চাকিরকান্দা এলাকায়। দুই বছর দুই মাস আগে এবাদুল তৃতীয় তলার কারখানায় কাজ নেন। ভবনধসের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। হাফিজুল ইসলাম জানান, থানায় জিডি করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি। পুলিশ নিখোঁজদের তালিকার টোকেন নাম্বার চায়। পরে রাগারাগি করে থানা থেকে চলে যান ছেলে হারানো এই বাবা। ইউনুছ আলীও শুক্রবার মেয়ে ময়না আক্তারের খোঁজ পেতে থানায় এসেছেন জিডি করতে। ময়নার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার ধুপুলিয়া গ্রামে। ময়নার বাবা বলেন, তার মেয়ে রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড কারখানায় অপারেটর পদে কাজ করত। কোথাও মেয়ের লাশের সন্ধান না পেয়ে জিডি করেছেন। এদিকে দুপুরে ধ্বংসস্তূপ-ঘেরা কাঁটাতার ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে। উৎসুক মানুষের ভিড়ে অনেকেই ছবি নিয়ে এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছেন নিখোঁজ স্বজনদের। ঢাকা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা রানা প্লাজার স্থানটির সামনে রয়েছে পুলিশের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আয়োজনে বিএনপির অনুরোধে সরকার সাড়া দেবে
বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |