পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
ড্রোন হামলার পক্ষে ওবামার সাফাইযাযাদি ডেস্ক ড্রোন হামলার পক্ষে সাফাই গাইলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া এক ভাষণে ওবামা বলেন, 'বিদেশের মাটিতে প্রাণঘাতী ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান ব্যবহার উগ্রপন্থীদের হামলা থেকে আত্মরক্ষায় আমেরিকার 'ন্যায্য যুদ্ধ'। এ সময় ড্রোন হামলা আমেরিকাকে আরো নিরাপদ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদা তথা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকার 'অনন্ত' যুদ্ধ আত্মপরাজয় ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। এ সময় আল-কায়েদা ও এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিশানা করে ড্রোন অভিযানের পরিসর ছোট করার ঘোষণাও দেন। এছাড়া গুয়ানতানামো বের সামরিক কারাগার বন্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তথ্যসূত্র : বিবিসি, ইন্টারনেট
গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী এই বক্তব্যে আমেরিকা বর্তমানে সন্ধিক্ষণে রয়েছে উলেখ করে ওবামা বলেন, আমেরিকাকে অবশ্যই ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর বহুমুখী বৈশ্বিক হুমকি ও অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদীদের কারণে এক নতুন যুগের মোকাবেলায় গৃহীত সন্ত্রাসবাদ দমন নীতি থেকে সরে আসতে হবে।
গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধ করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে ওবামা বলেন, 'গুয়ানতানামো সারাবিশ্বের সামনে এমন এক আমেরিকাকে উপস্থাপন করেছে, যারা আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করে।' ভাষণে ওবামা বলেন, 'সন্ত্রাসীরা এখনো আমাদের জাতিকে হুমকি দিচ্ছে। তবে এই হুমকি নাইন-ইলেভেনের মতো ঘটনা থেকে উদ্ভূত হলেও তা এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, তবে অন্যসব যুদ্ধের মতো এই যুদ্ধও শেষ করতে হবে। ইতিহাস এই পরামর্শই দেয়। আমাদের গণতন্ত্রও এই দাবি করে।'
নাইন-ইলেভেনের পর আফগানিস্তান ও ইরাকে ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করার পর আমেরিকা এখন যুদ্ধ থেকে সরে আসতে চাইছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই হোয়াইট হাউসের শীর্ষ বিবেচনাগুলোর মধ্যে থাকলেও বিভিন্ন জরিপ থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, আমেরিকার নাগরিকরা এসব থেকে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন। ড্রোন হামলায় বেসামরিক লোকজন মারা যাওয়ায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়া ওবামা ড্রোন হামলার লাগাম টানার কথা বলেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ড্রোন শুধু 'আসন্ন' হুমকির মোকাবেলায়ই ব্যবহার করা হবে।
গুয়ানতানামোর বন্দিদের ইয়েমেনে স্থানান্তর আপাতত স্থগিত করবেন জানিয়ে ওবামা আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের কারাগারটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানান। এই ঘোষণা সন্ত্রাসীদের হুমকি মোকাবেলায় ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ব্যবহার করে যাওয়ার আগের ঘোষিত নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
ড্রোন হামলার ফলে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চার আমেরিকান নিহত হওয়ার ব্যাপারে ওবামা বলেন, 'আমরা এখন এমন এক সংগঠনের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছি, যাদের না থামালে তারা যত আমেরিকানকে পারবে হত্যা করবে। তাই এটা কেবলই যুদ্ধ, যা সমানে সমানে শুরু হয়েছে। এর শেষ অবলম্বন হলো আত্মরক্ষা।' তিনি আরো বলেন, 'যেহেতু আমাদের লড়াই নতুন এক ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে, তাই আমেরিকা বৈধ উপায়ে আত্মরক্ষা করছে কিনা, সেখানেই আলোচনা শেষ হয়ে যায় না। একটি সামরিক কৌশল বৈধ বা কার্যকর বলা মানে তা প্রতি ক্ষেত্রে বিজ্ঞচিত বা নীতিসম্মত বলা নয়।' ড্রোন হামলায় যাতে কোনো সাধারণ নাগরিক মারা না যায়, সে ব্যাপারে প্রায় সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব বিষয়ে বুধবার ওবামার সই করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ড্রোন অভিযান সিআইএ'র পরিবর্তে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) অধীনে পরিচালিত হবে। তবে পাকিস্তানে চালানো ড্রোন অভিযানের কর্তৃত্ব বর্তমানের মতো সিআইএ'র হাতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওবামার এই ভাষণকে 'সন্ত্রাসীরা তাদের বিজয় হিসেবে দেখবে' বলে সমালোচনা করেছেন বিরোধী রিপালিকানরা।
প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ড্রোন হামলা আমেরিকার জন্য রীতিমতো আদর্শ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর ব্যবহার বিভিন্ন জটিল আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ড্রোন হামলা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওবামা প্রশাসন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন হামলা কিছুটা কমিয়ে এনেছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আয়োজনে বিএনপির অনুরোধে সরকার সাড়া দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin