শুক্রবার, মে, ২৪, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১০, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৩ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪১ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
টানা বর্ষায়
ভাসছে
ঢাকাযাযাদি রিপোর্ট ![]() বৃহস্পতিবার দিনভর টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। ছবিটি নয়া পল্টন এলাকা থেকে তোলা -ফোকাস বাংলামুষলধারা টানা বর্ষণে রাজধানীর নিম্নাঞ্চল পানিতে ভাসছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ব্যস্ততম প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন অলিগলিতে হাঁটু পানি জমেছে। জলাবদ্ধ রাস্তায় পড়ে থাকা বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে স্পৃষ্ট হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। জলবদ্ধতার কারণে গণপরিবহন সঙ্কটের মাঝেও সৃষ্ট যানজটে পড়ে নগরবাসীকে দিনভর চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।ঢাকা আবহাওয়া অফিস জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী লঘুচাপের সংমিশ্রণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃৃষ্টিতে হাজারীবাগ, বাড্ডা, বনশ্রী, বাসাবো, খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, ওয়াসপুর, বসিলা, ডেমরা ও কামরাঙ্গীরচরের নিচু অংশ পানিতে থৈ থৈ করছে। অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বেশকিছু এলাকার আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার ট্যাঙ্কি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কাঁচা পায়খানা ও স্যুয়ারেজের দূষিত পানি তাতে ঢুকে পড়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় সুপেয় পানীয়জলের অভাব দেখা দিয়েছে। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের মেরাদিয়া, ত্রিমোহনী, নন্দীপাড়া, কায়েতপাড়া, ভূঁইয়াপাড়া, সাঁতারকুল, বাইগাদা, নামাপাড়া, রাজাখালী, নলছাটি ক'দিন আগে থেকেই কিছুটা পানি জমে ছিল। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত টানা বর্ষণের পর এসব এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পুরান ঢাকার বাবুবাজার থেকে বেচারাম দেউড়ি পর্যন্ত সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গোপীবাগ, নয়াটোলা, আরমানীটোলা, খাজে দেওয়ান লেন, প্রথম লেন, দ্বিতীয় লেন, নয়াবাজার, ইসলামপুর, শ্যামবাজারসহ অনেক এলাকায় এমনিতেই সরু রাস্তাঘাট, তার ওপর পানিতে ডুবে থাকার কারণে এসব এলাকার মানুষ এক অর্থে পানিবন্দি হয়ে পড়ে। রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, তেজতুরি বাজার, কারওয়ানবাজার, মৌচাক মোড়, পুলিশ লাইন, নাখালপাড়া, তেজকুনিপাড়া, মিরপুর, পল্লবী, কালশী, বাড্ডা, ডেমরা, ধলপুর ও শনিরআখড়াসহ বেশকিছু এলাকার কিছুটা উঁচু সড়কেও হাঁটু পানি জমেছে। নগর বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজধানী ঢাকায় বছরে ৫৬ কোটি ঘনমিটার পানি নিষ্কাষিত হয়। এর মধ্যে ২৩ কোটি ঘনমিটার বৃষ্টির পানি। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই এই পানি জমে বলে তা যথাযথভাবে নিষ্কাশন করা যায় না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এজন্য শুধু ওয়াসার পানি নিষ্কাষণের অব্যবস্থাকেই দায়ী না করে অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করা উচিত বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, রাজধানীতে অন্তত ২৬০ বর্গ কিলোমিটার ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক থাকা উচিত। অথচ আছে মাত্র ১৫০ বর্গ কিলোমিটার। প্রয়োজনের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম এলাকার ড্রেনেজ নিয়েও কাজ করা যেত যদি যেটুকু সম্পদ আছে তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হতো। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সঙ্গে অন্যান্য বর্জ নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ করা হয় না। তাতে বর্জ্যের কারণেই জলাবদ্ধতা আরো প্রকট হয়ে ওঠে। এদিকে এক সময় ঢাকা শহরকে ঘিরে থাকা শতাধিক খালের মাত্র কয়েকটি নামকাওয়াস্তে বেঁচে আছে। বেঁচে থাকা এসব খালেও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এমনভাবে জমা পড়েছে যে সেগুলোতেও আর পানি প্রবাহিত হয় না। তাছাড়া অধিকাংশ খালও বিভিন্ন সংস্থা ও প্রভাবশালীরা দখল করে পানি প্রবাহের পথে স্থাপনা গড়ে তুলেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হলে তা নিয়ন্ত্রণের মতো সক্ষমতা তাদের আছে। অথচ গত বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি হয়েছে ৭০ মিলিমিটার। ফলে নগর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে টানা বর্ষণে সৃষ্টি জলজট অন্যদিকে ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা রাস্তা, এর উপর শ্রাবণের অবিরাম ধারায় রাজধানী পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের জনপদ। সরেজমিন রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ, উত্তরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, মিরপুরের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মণিপুর, আজিমপুর, ধানম-ি, পুরান ঢাকার বাবুবাজার, গোপীবাগ প্রভৃতি এলাকায় দেখা গেছে বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া বিধ্বস্ত সড়ক আর তীব্র জলজট। ম্যানহোলের ঢাকনাবিহীন খানাখন্দে ভরা সড়ক পানিতে ডুবে থাকায় তা পদে পদে হয়ে ওঠে মরণ ফাঁদ। পানিতে ডুবো গর্তে পড়ে উল্টেছে রিকশা, স্কুটার, মোটরসাইকেল ও ট্যাক্সিক্যাবসহ ছোট-বড় অনেক যানবাহন। দুর্ঘটনায় পড়া ও বিকল যানবাহন মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকায় পানিতে ডুবে থাকা অধিকাংশ প্রধান সড়কে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক যানজট। এদিকে দিনভর টানা বর্ষণের ফাঁদে পড়ে ছুটির দিনে অনেকেই ঘরে স্বেচ্ছায় বন্দি থাকলেও গণপরিবহনের সঙ্কট কাটেনি। বরং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে থেকেও গণপরিবহনের দেখা মেলেনি। রিকশা, স্কুটার আর ট্যাক্সিক্যাবে ভাড়া হেঁকেছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। মল্লযুদ্ধ করে বাড়তি ভাড়ায় স্কুটার ও ট্যাক্সিক্যাবে চাপলেও জলাবদ্ধতায় গাড়ি বিকল হওয়ায় কাউকে কাউকে মাঝ রাস্তায় নামতে হয়েছে হাঁটু পানিতে। জলমগ্ন রাস্তা দ্রুতগতিতে পার হতে গিয়ে বাস-মিনিবাস ও প্রাইভেটকার কর্দমাক্ত পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে অনেক রিকশাযাত্রী ও পথচারীকে। ফলে তাদের গন্তব্যে পেঁৗছানোর আগেই ভেজা কাপড়চোপড় নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছে। স্কুটারচালক ইমারত জানায়, জলমগ্ন রাস্তায় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে দু'বার গাড়ি নষ্ট হয়েছে। তা মেরামতের খরচা বাদ দিয়ে বিকাল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৫শ' টাকা আয় হয়েছে। রাত পর্যন্ত আরো পাঁচশ' টাকা আয় হলেও গাড়ি ভাড়া দেয়ার পর তার হাতে দু' থেকে আড়াইশ' টাকা থাকবে। ইমারতের মতো সিএনজি চালক আরো অনেকেই একই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। দিনমজুর আসাদ জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে মালিবাগ মোড়ে 'লেবার হাটে' দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেনি। পরে মৌচাকের জলমগ্ন সড়কে বিকল গাড়ি ঢেলে বিকাল পর্যন্ত ১১০ টাকা রোজগার করেছে। ঢাকার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে-বাইরে দু'জায়গাতেই মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সাঁতারকুলের বাসিন্দা রেবেকা সুলতানা জানান, পানির কারণে ভোররাত থেকে দু'নাতনিকে নিয়ে খাটের ওপর বসে থাকতে হয়েছে। দুপুরের পর বৃষ্টি থেকে গেলে পানি সরে যাবে এমন আশায় থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি নামেনি। রেবেকার মতো ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, মেরাদিয়া, ত্রিমোহনী, নন্দীপাড়া, কায়েতপাড়া, ভূঁইয়াপাড়া, বাইগাদা, নামাপাড়া, রাজাখালী, নলছাটি এলাকার বাসিন্দাদেরও। এসব এলাকার কয়েক হাজার কাঁচা ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এদিকে ক'দিনের বৃষ্টিতে তরিতরকারিসহ বিভিন্ন কাঁচামালে লেগেছে আগুন। বেগুন, পটল, কাঁচামরিচ, টমেটো, পেপে থেকে সব ধরনের সবজি বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে। দোকানিদের একই অজুহাত- বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকায় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে বেশি দরে কাঁচামাল কিনতে হয়েছে, এ কারণে তাদেরও বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে জিনিসপত্র বেচতে হচ্ছে। ( লেখাটি পড়া হয়েছে ৬৮ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে
আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |