পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
ভারত-চীনের ওপর পৃথিবীর উন্নতি নির্ভরশীলদিলি্ল সফরে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং : দুই দেশ কৌশলগত অংশীদার ও ভালো বন্ধযাযাদি ডেস্ক কৌশলগত পারস্পরিক বিশ্বাস ছাড়া ভারত ও চীনের মধ্যে শান্তি এবং আঞ্চলিক স্থায়িত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। সোমবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অফ অনার পাওয়ার পর এমন মন্তব্যই করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। আর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভারত-চীনের যৌথ উদ্যোগ এবং যুগপৎ উন্নতি ছাড়া পৃথিবীর উন্নয়নই সম্ভব নয়। ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে লি বলেন, ভারত-চীন দু'জনেই 'কৌশলগত অংশীদার ও ভালো বন্ধু'। উল্লেখ্য, চীনের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে তিন দিনের ভারত সফরে রয়েছেন। রোববার তিনি ভারতে যান। তথ্যসূত্র : জি-নিউজ, বিবিসি, টাইমস অব ইনডিয়া
সোমবার হায়দরাবাদে যৌথ সাংবাদ সম্মেলনে মনমোহন সিং বলেন, লি'র ভারত সফর আমাদের কাছে সম্মানের। তাকে কাছ থেকে জানতে পেরে ভালো লাগল।' রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে দুইজনের মধ্যে আন্তরিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মনমোহন। অন্যদিকে, ভারত-পাক সম্পর্কে যে খানিকটা ফাটল ধরেছে, তাও স্বীকার করে নিয়েছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের পর ভারত সফররত চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেছেন, দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চীন ও ভারতকে 'কৌশল উন্নয়ন' করতে হবে। তিনি শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর মনমোহন সিং জানিয়েছেন, সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিরা শিগগির বৈঠকে বসবেন। সমপ্রতি লাদাখ সীমান্ত নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার পরপরই এই বৈঠকে অনুষ্ঠিত হলো। লাদাখ সীমান্তে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অনুপ্রবেশের ঘটনা ভালো চোখে দেখছে না দিলি্ল। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে যে শান্তি বজায় রাখার প্রক্রিয়া চলছে, তাতে প্রভাব পড়বে। ভারত সফররত চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংকে এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি ভারতে 'অনুপ্রবেশ' করে লাদাখের দেসাং উপত্যকায় বেশ কয়েকটি সেনা ছাউনি তৈরি করেছিল পিএলও। ভারত পাল্টা ঘাঁটি তৈরি করায় দিলি্ল ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছিল। পরে দুই দেশের মধ্যস্থতায় সেনা প্রত্যাহার করে বেইজিং। দিলি্ল যে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি, রোববারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রীকে তা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন মনমোহন সিং।
চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে লি ভারত যান। প্রতিবেশী এই দেশ দুটো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল। সোমবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্যসহ অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে আটটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়।
প্রধানমন্ত্রী লি বলেন, 'আমরা স্বীকার করছি, আমাদের দুইপক্ষের মধ্যে সমস্যা রয়েছে। আমাদের সীমান্ত সংক্রান্ত কৌশল আরো উন্নত করতে এবং আরো দক্ষ করতে হবে।' তিনি বলেন, 'আমি এবং মনমোহন সিং উভয়েই বিশ্বাস করি, আমাদের দুইপক্ষের মধ্যে মতভিন্নতার চেয়ে বেশি স্বার্থ রয়েছে। এসব ইস্যুকে উদার মন নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তা সামাল দিতে হবে।'
এর আগে সকালে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান লি কেকিয়াং। সেখান থেকে তিনি যান রাষ্ট্রপতি ভবনে। সেখানে চীনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার জানানো হয়। তারপর হায়দরাবাদ হাউসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদের সঙ্গে দেখা করেন লি কেকিয়াং। দুইজনের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। চীনের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন সালমান খুরশিদ।
বিকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করেন লি কেকিয়াং। এরপর ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বিকালে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। আজ সকালে তাজ হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন লি কেকিয়াং। বাণিজ্য নগরীতে একাধিক বণিক সভার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ২০১৫ সালের মধ্যে চীন ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী। ভারতে তিন দিনের সফর শেষে চীনা প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি সফর করবেন।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin