মতামত :
¦
¦
হেফাজতের আধ্যাত্মিক মিশনআপাতত মাঠে কর্মসূচি নয়, ওলামা সম্মেলনের চিন্তাঅনিন্দ্য চৌধুরী চট্টগ্রাম মতিঝিলের সহিংস ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থানে চুপসে গেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সাংগঠনিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনো চেষ্টাই সফল হচ্ছে না। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মপন্থা ঠিক করতে পারেননি। বার বার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও কোনো সাংগঠনিক জেলা থেকে পাঠানো হয়নি মতিঝিলের ঘটনায় হতাহতের তালিকা। এ পরিস্থিতিতে সংগঠনের আমির মুফতি শাহ আহমদ শফীর পরামর্শে আপাতত আধ্যাত্মিক কার্যক্রম জোরালো করার চেষ্টা চলছে বলে সূত্র জানায়।
হেফাজতের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সংগঠনের আমির শাহ আহমদ শফী ৫ মের মতিঝিলের ঘটনার পরদিন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় আসার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঘটনার দুই দিন পর ৭ মে নিজের মাদ্রাসায় বৈঠক করে হেফাজতের সিনিয়র নেতাদের বলে দিয়েছেন, আপাতত মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের কর্মসূচি হবে না। আধ্যাত্মিক কর্মকা-ের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ওই সময় এক কেন্দ্রীয় নেতা আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির ৬টি প্রস্তাব আমিরের কাছে পেশ করলে তিনি তা গ্রহণ করেন। সেগুলো হলো- পাড়া-মহল্লায় নুরানি মক্তব প্রতিষ্ঠা, তাবলিগের কার্যক্রম জোরদার, ওলামায়ে কেরামের সানি্নধ্য অর্জন, এলাকাভিত্তিক ইসলামী পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, মহিলাদের মর্যাদা রক্ষায় শরীরী পর্দার উদ্বুদ্ধকরণ এবং ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনের উৎসাহমূলক আলোচনা।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে আসার পর মুফতি শফীর সঙ্গে ঢাকা বা দেশের অন্য এলাকার নেতাকর্মীদের খুব বেশি যোগাযোগ হয়নি। এরমধ্যে খেলাফত আন্দোলনের আমির আহমদুল্লাহ আশরাফ, চরমোনাই পীরের ভাই ও ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিমসহ কয়েকজন আলেম তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা দিয়েছেন। মুফতি শফী সবাইকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করার অনুরোধ করেছেন। ৫ মের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া বা জোরালো আন্দোলনের ব্যাপারে কাউকে কিছু বলেননি।
হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ আলী নিজামপুরী যায়যায়দিনকে বলেন, ৫ মের ঘটনার পর এখন পর্যন্ত নীতিনির্ধারক নেতারা একসঙ্গে বসতে পারেননি। পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে ওলামা সম্মেলন আয়োজনের চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ সম্মেলন হতে পারে আমির আহমদ শফীর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায়। তবে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে, মতিঝিলের সমাবেশ পরবর্তী ঘটনায় বহু হতাহতের অভিযোগ তোলা হলেও হেফাজতে ইসলাম এখন পর্যন্ত কোনো তালিকা করতে পারেনি। ৭ মে এ বিষয়ে টেলিফোনে জেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশনা দেয়া হয়। বিষয়টি দেখভাল করছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও হাটাহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দেস মওলানা ফোরকান আহমেদ। যায়যায়দিনকে তিনি বলেন, এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো জেলা থেকে হতাহতের তালিকা পাঠানো হয়নি। জেলার নেতাদের তৎপরতায় মনে হচ্ছে, বিষয়টিকে তারা গুরত্বই দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দেস। তিনি আটক থাকায় মাদ্রাসায় তার ক্লাসগুলো তিনিসহ (ফোরকান) আরো কয়েকজনকে সমন্বয় করতে হচ্ছে। পাঠদানে বেশি ব্যস্ততার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ঠিকমতো সময় দিতে পারছেন না।
এদিকে, হেফাজতের জন্য আরেক দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে বিচ্ছিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি। মাঠপর্যায়ে মিছিল-সমাবেশের ব্যাপারে আমির আহমদ শফীর আগ্রহ না থাকলেও, হেফাজতের ব্যানারে কে বা কারা শুক্রবার চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় মিছিল ও সমাবেশের চেষ্টা করে। সেখান থেকে আটক করা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকসহ ৮ জনকে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃত মো. নাছিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক। তিনি হেফাজতের সঙ্গে জড়িত। বাকিদের কেউ জামায়াত-শিবির, কেউ আবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।'
 
( লেখাটি পড়া হয়েছে ৯০৯ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin