সোমবার, মে, ২০, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৬, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৯ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৭ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
বিপুল ঘাটতির বিশাল বাজেটআহমেদ তোফায়েল/মিজানুর রহমান ![]() আগামী (২০১৩-১৪) অর্থবছরের জন্য বিপুল ঘাটতির বিশাল বাজেট আসছে। প্রস্তাবিত এ বাজেটে মোট আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। আর এতে ঘাটতি থাকছে ৬১ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির সম্ভাব্য এই আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ। জানা গেছে, ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয়া হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ২১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া হবে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে নেয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে বাজেট ঘাটতির ওই প্রাক্কলন করেছে। চূড়ান্ত করার সময় এই পরিসংখ্যানের সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ব্যবস্থাপনা আইনে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার কথা বলা হলেও সরকার তা কমাতে পারছে না। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়, চলতি অর্থবছরে প্রকৃত অর্থে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ঘাটতি ওই লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে ৪৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বাজেট ঘাটতি এমন পর্যায়ে সীমিত রাখতে হবে যাতে জিডিপির অংশ হিসেবে পুঞ্জীভূত ঋণ কমে আসে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ঘাটতির কারণে বিনিয়োগ সঙ্কুচিত না হয়ে পড়ে। ওই আইনে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেট ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না। বাধ্য হয়েই সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎসের দিকে বেশি ঝুঁকতে হচ্ছে। কারণ বৈদেশিক ঋণের কাঙ্ক্ষিত ছাড় হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও বেড়ে গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ বাড়াতে হচ্ছে। যদিও সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদ হার বাড়িয়েছে। এতে করে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ কিছুটা বাড়বে। এদিকে বিশাল ঘাটতি বাজেট এবং ব্যাংক ঋণের সমালোচনা করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে সরকারকে বারবার ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করতে হচ্ছে। আর ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাচ্ছে। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয় না থাকার কারণে বারবার ঘাটতি বাজেট আসছে। বিদেশি অনুদানের ২৫ শতাংশ খরচ করতে পারলেও আগামী বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ কমত। সরকার গত বছর যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে এখনো সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তাই ওইসব প্রকল্পে আগামী বাজেট থেকেও ব্যয় করতে হবে। সরকার প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়নের জন্য যা বরাদ্দ দিয়ে থাকে অর্থবছরের শেষ সময়ে তাড়াহুড়া করে খরচ করে। এতে কাজের মান ঠিক থাকে না। এ কারণে আগামী বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়বে। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়া কমাতে হবে। সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়ার পরিমাণ কম হলেই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। মানুষের জীবনযাত্রার মানেরও উন্নয়ন হবে। সরকার ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ আরো বাড়ালে বেসরকারি খাতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং কর্মসংস্থান হবে না। আগামী বাজেট সম্পর্কে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে নেতিবাচক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থাকার কারণে সরকারকে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করতে হচ্ছে। এই ধারা আগামী দিনেও চলবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ছে। অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পাড়বে। কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার অনেক কাজ করছে। তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের কারণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেশি নিতে হচ্ছে। সরকার ব্যাংক থেকে অধিক পরিমাণে ঋণ নেয়ার কারণে অর্থনীতিতে সঙ্কট চলছে। এডিপি বাস্তবায়ন করতে পারছে না। চলতি বাজেটে সরকার যা নির্ধারণ করেছে তার মধ্যে অধিকাংশই বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ অবস্থায় আগামী বাজেট প্রণয়ন করলে এটাও বাস্তবায়ন হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছরের বাজেটে যে পরিমাণ ঘাটতি ধরা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত ততটা লাগেনি। এর প্রধান কারণ হলো আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পুরোটা বাস্তবায়ন হয় না। তবে ঘাটতি মেটাতে অর্থায়ন যাই লাগুক ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের বেশি ঋণ গ্রহণ করা ঠিক নয়। যদিও সারা বিশ্বেই এখন বৈদেশিক সহায়তা শুকিয়ে গেছে। সবার মধ্যে ঋণের পরিবর্তে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা বেশি। ফরাসউদ্দিন আরো বলেন, এডিপির প্রকল্প অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরকারি তহবিলের প্রতি অগ্রাধিকার দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। বৈদেশিক তহবিল ব্যবহারে তাদের আগ্রহ কম। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে কতটুকু বৈদেশিক সহায়তা পেলে কতটুকু সরকারি তহবিল দেয়া হবে তার একটি অনুপাত নির্ধারণ করে দেয়া উচিত। গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বৈদেশিক সহায়তা ছাড় করাতে পারছে না। এ জন্য অভ্যন্তরীণ উৎসের দিকে বেশি ঝুঁকতে হচ্ছে। সংশোধিত বাজেটের প্রাক্কলন অনুযায়ী সরকার ব্যাংক ঋণ নিলে অবধারিতভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রাপ্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যাংক থেকে বেশি বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত আরো বেশি বেকায়দায় পড়বে। জানা গেছে, সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটারকে তুষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। কর বাড়ানো হবে না, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্যের ওপর থেকে করের বিদ্যমান হার কমানোর প্রস্তাব করা হবে এই বাজেটে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য একটি নতুন বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণাও থাকছে বাজেটে। বলা হবে, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আগামী ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। চূড়ান্ত হিসাবে তার কিছুটা হেরফের হতে পারে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুুল মাল আবদুল মুহিত আগামী ৬ জুন বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেটটি উপস্থাপন করবেন অনুমোদনের জন্য। সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই হিসাবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকছে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। তাই প্রথমে ভাবা হয়েছিল, আগামী অর্থবছরের বাজেট ৬ মাসের (জুন-ডিসেম্বর) দেয়া যায় কি-না। কিন্তু কাঠামোগত অসুবিধা এবং ধারাবাহিকতার সুবিধার্থে সেই চিন্তা বাদ দেয়া হয়েছে। এখন পুরো অর্থবছরের বাজেটই দেয়া হবে। কারণ বর্তমান সরকার নিয়ম অনুযায়ী আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচন হলে সে ক্ষেত্রে আরো তিন মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। তাই সরকার ১২ মাস বা এক বছরের বাজেট তৈরি করবে। আর এ জন্য দিনরাত কাজ শুরু করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগ। আগামী অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য ২ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। করের হার না বাড়িয়ে মূলত করের আওতা সম্প্রসারণ এবং নতুন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করেই এই রাজস্ব আদায় করবে সরকার। ( লেখাটি পড়া হয়েছে ৩৬ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |