বৃহস্পতিবার, মে, ২৩, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৯, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১২ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪০ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
রাজনীতিতে শিশুদের ব্যবহার
বন্ধে আইন করার উদ্যোগ'শিশু বিল-২০১৩' তে সুনির্দিষ্ট বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় কমিটিযাযাদি রিপোর্ট ![]() শিশুদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ করতে সংসদে উত্থাপিত 'শিশু বিল-২০১৩' তে সুনির্দিষ্ট বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন এবং শিশু পাচার বন্ধে বিধান রাখারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।বুধবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে 'শিশু বিল-২০১৩' নিয়ে এই আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য অপু উকিল বলেন, সংসদে উত্থাপিত বিলে শিশুদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধে কোনো বিধান ছিল না। এই বিধান বিলে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুরা বিভিন্ন রকম নির্যাতনের শিকার হয়। এগুলো বন্ধ করতেও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অপু উকিল জানান, শিশু পাচার বন্ধে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক গুরুত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছে সংসদীয় কমিটি। শিশুদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে গত ৩০ এপ্রিল 'শিশু বিল-২০১৩' সংসদে উত্থাপিত হয়। পরে এটি পরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ এবং মতিঝিলের সমাবেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিশুদের জমায়েত করা হয়। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা ছাত্রদের ভয় দেখিয়ে ঢাকায় জমায়েত করেন। সংসদীয় কমিটির বৈঠক-সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংযোজন করে আগামী ৫ জুন কমিটির বৈঠকে বিলটি আবার উত্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে প্রত্যেক থানায় একটি করে শিশু ডেস্ক গঠন করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক থানায় উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার একজনকে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে আলাদা শিশু আদালত প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, 'আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা কোনো শিশু মামলায় জড়িত থাকলে, যে কোনো আইনের অধীনেই হোক না কেন, ওই মামলার বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু-আদালতেরই থাকবে।' বিলে শিশু অপরাধী এবং প্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীকে একসঙ্গে কোনো অপরাধের দায়ে চার্জশিট না দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যে কোনো মামলায় শিশুকে অবশ্যই জামিন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, শিশু আদালত ওই আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিতির তারিখ থেকে ৩৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। তবে প্রয়োজনে আরো ৬০ দিন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিলে আরো বলা হয়েছে, কোনো শিশুকে মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া যাবে না। বিলে বলা হয়েছে, ৯ বছরের নিচের কোনো শিশুকে কোনো অবস্থায়ই গ্রেপ্তার বা আটক রাখা যাবে না। ৯ বছরের বেশি কোনো শিশুকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হলে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি পরানো যাবে না। প্রস্তাবিত আইনের অধীনে শিশুদের সুরক্ষা দিতে প্রত্যেক জেলা-উপজেলা-মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন বিচারাধীন কোনো মামলা বা বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী হয়_ এমন কোনো প্রতিবেদন, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, যার দ্বারা শিশুটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়। এই বিধান লঙ্ঘন করলে ১ বছর কারাদ- অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদ-ের শাস্তি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য এবং কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'সময়ের বিবর্তন শিশুর সুরক্ষা, অধিকার উন্নয়ন ও বিকাশের বহুমাত্রিকতা, আন্তর্জাতিক প্রবণতা বিবেচনায় 'শিশু আইন-১৯৭৪' যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।' সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, চেমন আরা বেগম, এ এন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ ও অপু উকিল অংশ নেন।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
মহানগর -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদে গিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |