রোববার, মে, ১৯, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৫, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৮ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৬ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে
বিএনপির জটিল সমীকরণএই নির্বাচনে শাসকদলকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবে না প্রধান বিরোধী দল। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে না, তবে প্রার্থী দেবে।যাযাদি রিপোর্ট ![]() আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি 'ধরি মাছ না ছুঁই পানি' কৌশল গ্রহণ করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বৈধতা না দিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। আর এ জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে না। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মহানগরগুলোর নেতৃত্ব অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে আসন্ন চার সিটি নির্বাচনে তারা আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে রাজি নন। আবার এই নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে সেটা হবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে মেনে নেয়া। পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিএনপির প্রধানতম রাজনৈতিক ইস্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর। একই কৌশল অবলম্বন করে এর আগে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী দেয়নি দলটি। জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনেও অংশ নেয়নি তারা। কিন্তু সিটি নির্বাচনগুলোয় প্রার্থীদের পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছে। এ কৌশলের সুযোগ নিয়েই কুমিল্লায় বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। যতই জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে ততই জটিল সমীকরণে পড়ছে বিএনপির এ কৌশল। বর্তমান সময়ে কোনো প্রার্থীকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করাও সহজ নয়। কিন্তু দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনে। যা বিগত নির্বাচনে উপলব্ধি করেছে বিএনপি। তবে এবারো আপসহীন অবস্থানে থেকেই পরোক্ষ সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। যারা চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন তারা দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেই নির্বাচন করবেন। কিন্তু এবার একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বিগত সিটি নির্বাচনের ভুল সিদ্ধান্তের উপলব্ধি থেকেই এবার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে দলটি। সিটি নির্বাচনের ব্যাপারে স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব-বিভেদ ভুলে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার তাগিদও দেয়া হয়েছে। এদিকে বিএনপির মাঝারি সারির নেতারা জানান, রাজনীতিতে আপসহীন অবস্থান সবসময় ফলদায়ক নয়। এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরের ক্ষমতা দখল করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে নিশ্চিতভাবেই তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু সরাসরি নির্বাচনে না নামলে সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করা কঠিন। সেই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হবে। এদিকে সমপ্রতি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আইনগত বাধা দূর হয়েছে উচ্চ আদালতের রায়ে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি সরকারের তরফে। কিন্তু ডিসিসি নির্বাচন নিয়েও কঠিন সমীকরণে রয়েছে বিএনপি। ডিসিসিকে দ্বিখ-িত করার প্রতিক্রিয়ায় ভবিষ্যতে মেয়র নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। আবার সারাদেশে যখন বিএনপির আন্দোলন তুঙ্গে তখন বারবার ব্যর্থ হয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। মহানগর আহ্বায়ক হিসেবে ব্যর্থতার দায়ভারও খোকারই বেশি। অন্যদিকে গতবছর ডিসিসি নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় উপযুক্ত প্রার্থী পায়নি বিএনপি। আলোচনায় ছিল একজন ব্যবসায়ী নেতা ও একজন নাগরিক নেতাই পেতে যাচ্ছেন বিএনপির সমর্থন। সে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটেনি এখনো। ফলে এ মুহূর্তে সরকার ডিসিসি নির্বাচন ঘোষণা করলে বিপাকে পড়বে বিএনপি। এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী নিয়েই সবচেয়ে বড় সঙ্কটে রয়েছে বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা চাইছেন মরহুম অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সাবেক মহানগর সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরীকে। বর্তমান সরকারের সময়ে গা বাঁচিয়ে চলা এ নেতার ঘোর বিরোধী জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল নেতারা চাইছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ও সিলেট জেলা সভাপতি এম ইলিয়াস আলীর সবচেয়ে আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ও মামলায় জর্জরিত জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামানকে। তৃণমূল বিএনপি নেতারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে সিলেটবাসীর আবেগের মূল্যায়ন কেবল জামানই পেতে পারেন। আবার জোটের শরিক দল জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও সেখানে প্রার্থী হয়েছেন। আবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ হয়েছে খুলনায়। সাবেক বিএনপি নেতা ও স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলীসহ প্রবীণ রাজনীতিকরা 'সম্মিলিত নাগরিক কমিটির' ব্যানারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের পক্ষে মাঠে নামায় পাল্টে গেছে রাজনৈতিক পট। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি নির্বাচনে নেমেছেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক ফোরামের ব্যানারে। ওদিকে বরিশালে যখন আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিরণ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তখনও একক প্রার্থী ঠিক করত পারেনি বিএনপি। বিএনপির প্রার্থী ঠিক না হওয়ায় বিমর্ষ নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় সাবেক মেয়র সরোয়ারসহ এবারের দুই প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ও এবাদুল হক চাঁনকে ঢাকায় তলব করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এদিকে স্বস্তিতে নেই রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীরাও। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী নিয়ে ১৮ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতকে মানাতে এখন গলদঘর্ম বিএনপির। জামায়াত আলাদা মেয়রপ্রার্থী দেয়ায় জোটের মধ্যে চলছে সম্পর্কের টানাপড়েন। অতীতে বারবারই বিএনপিকে ছাড় দেয়া হলেও ননাভাবে বঞ্চনার কারণে এবার আর ছাড় দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। এ অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র শামসুজ্জামান দুদু জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এখনো কিছু ভাবছে না বিএনপি। দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চেয়ে এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, এখন এ নির্বাচন নিয়ে তারা চিন্তিত নন। তবে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সেই সঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের আস্থার সঙ্কটের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা বলেন, যারা এ নির্বাচনে অংশ নিতে চান তাদের কথা শোনা হবে। তারপর নির্বাচনে অংশ নেয়া, না নেয়ার প্রশ্ন আসবে। খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে দুদু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগতভাবে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তাই এ ক্ষেত্রে কেউ নিজে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দলের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেয়ার চিন্তা করতেই পারেন। আর দলের সিদ্ধান্ত জানাতে স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দিতে দেয়া হবে না। তাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া ছিল। এখনো জনসংযোগ বাড়ানোসহ অন্য প্রস্তুতি নেবেন। বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, নির্বাচনে অংশ নেবেন। যখনই নির্বাচন হোক না কেন। আজ হলে আজ, কাল হলে কাল। আগেও সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, এখনো প্রস্তুত আছেন। উল্লেখ্য, আইনি জটিলতায় যাওয়ার আগে ডিসিসি নির্বাচনে অংশ নিতে রিপন, সালাম ছাড়াও আগ্রহী ছিলেন বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আওয়াল মিন্টু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন পিন্টু, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এমএ কাইয়ুম। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |