মতামত :
¦
¦
স্বপ্নই থেকে গেল উড়াল সড়করতন বালো উড়াল সড়কের নকশাভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা ও নকশা পরিবর্তনের ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ঢাকা উড়াল সড়ক (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণ কাজ। ২০১১ সালের মার্চ থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৪ সালের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবচিত্র উল্টো।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণই করা যায়নি। তাই নির্মাণ শেষ করা তো দূরের কথা, কাজ শুরু নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে লেজেগোবরে অবস্থা। হোঁচট খেতে বসেছে সরকারের যানজটমুক্ত রাজধানী গড়ে তোলার উদ্যোগ।
জানা গেছে, রেলওয়ে, প্রথম অবস্থায় সিদ্ধান্ত হয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমির ওপর উড়াল সেতু নির্মাণ করা। পরে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ব্যক্তি মালিকাধীন জমি অধিগ্রহণের দিকে ঝুঁকে পড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে পরিবর্তন করতে হয়েছে নকশাও। এতে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। তবে সেতু বিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি উড়াল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সহায়ক একটি প্রকল্প অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ফলে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা উড়াল সেতু নির্মাণ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সেতু বিভাগ। প্রকল্পের অধীনে ঢাকা উড়াল সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন, ইউটিলিটি স্থাপনাসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হবে বলে সেতু বিভাগ দাবি করেছে।
এদিকে উড়াল সেতু প্রকল্প এলাকায় কুড়িল কুড়াতলী, জোয়ার সাহারা, খিলক্ষেত এলাকার বেসরকারি জমি হুকুম দখল না করার দাবি জানিয়েছেন কুড়িল কুড়াতলী জোয়ার সাহারা ও খিলক্ষেত এলাকাবাসী। তারা এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে তারা বলেছেন, জোয়ার সাহারা, খিলক্ষেত এলাকার আরএস দাগের ওপর দিয়ে যে এক্সপ্রেসওয়ের নকশা করা হয়েছে তা উলি্লখিত এলাকার অনেকের পৈতৃক ভিটামাটির শেষ সম্বল। তারা আরো বলেছেন, জোয়ার সাহারা, খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের এবং সড়ক ও জনপথের পর্যাপ্ত জমি পড়ে আছে। সেসব জমি ব্যবহার করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, ওমর আলী, ইসহাক মিয়া, ফরিদ উদ্দিন, আব্দুল হাকিম, কাজী শহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, কাজী হেদায়েত প্রমুখ জানান, উড়াল সেতুর নকশা ঘুরিয়ে করার ফলে এলাকার কয়েকশ' পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং সরকারের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। তারা আরো বলেছেন, এই প্রকল্প গ্রহণের সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল উড়াল সড়ক নির্মাণে কোনো বেসরকারি জমি হুকুম দখল করা হবে না। রেলওয়ে এবং সড়ক বিভাগের খালি জমির ওপর দিয়ে উড়াল সড়ক নির্মাণ হবে। কিন্তু সরকার সরাসরি না করে একটু ঘুরিয়ে বেসরকারি জমির ওপর দিয়ে করার উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য বুয়েট, রেলওয়ে ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইতাল থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানিকে যৌথভাবে সার্ভে করার দায়িত্ব দেয়া হয়। কথা ছিল গত ১৫ মার্চের মধ্যে এক সপ্তাহে ১শ' ৫০ একর জমির সার্ভে শেষ করা হবে। সে অনুয়ায়ী কিছুই হয়নি। কবে নাগাদ শেষ হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। ভূমি সার্ভে শেষ হলে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। উড়াল সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১১'র খসড়া নীতিগতভাবে ২০১১ সালের ৭ মার্চ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে।
জমি অধিগ্রহণের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে ও ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উড়াল সড়কের কাজ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে চান না। তিনি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
কিন্তু প্রকল্প পরিচালক কবির আহম্মদের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার অফিস থেকে বলা হয়েছে, ভূমি সার্ভে করার জন্য কোনো সময় বেঁধে দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ঢাকায় প্রথম উড়াল সড়ক শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, সাতরাস্তা, মগবাজার, কমলাপুর, খিলগাঁও, গোলাপবাগ হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এ সড়কের মূল অংশ ২১ কিলোমিটার। এর সঙ্গে আরো পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সংযোগ সড়ক থাকবে। এর একটি হবে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে তেজগাঁও লেভেলক্রসিং পর্যন্ত। অন্যটি পলাশী থেকে মগবাজার পর্যন্ত।
জানা গেছে, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধানে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ ব্যয় ৮ হাজার কোটি টাকার ৭৩ শতাংশ বিনিয়োগ করবে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি। বাকি ২৭ শতাংশ দেবে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকার ৬ কিস্তিতে ২৭ শতাংশ টাকা দেবে। প্রথম কিস্তি নির্মাণ কাজ শুরুর এক বছর পর দেয়া হবে। নির্মাণ শুরুর আগে কোনো টাকা দেয়া হবে না বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সড়ক নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর অভিজাত একটি হোটেলে। সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং ইতাল থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট প্রেমচাই কর্নাসুতা চুক্তিপত্রে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের পর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ২৫ বছর সড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় করবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদে গিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin