মতামত :
¦
¦
আফগানিস্তান নিয়ে দোটানায় ভারতভারতের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়ে কারজাই পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিতে চান, জঙ্গিদের মদদ দেয়া থেকে পাকিস্তান যদি বিরত না থাকে, তাহলে আফগানিস্তানে শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভারতের সামরিক উপস্থিতিও বাড়বে...যাযাদি ডেস্ক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ৩ দিনের দিলি্ল সফর করে নিজভূমে ফিরেছেন। তবে যাওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য আর্থ-সামাজিক বিষয়ের চেয়ে আফগানিস্তানকে কেন এখন ভারতের আরো বেশি সামরিক সাহায্য দেয়া দরকার, তার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে বুধবার তার পছন্দের অস্ত্রের তালিকাও ভারতকে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের কারজাই বলেছেন, 'আমাদের পছন্দের একটি তালিকা আছে। সেটি আমরা ভারত সরকারকে দিয়েছি। এখন ভারত আফগানিস্তানকে কতটুকু সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তা তাদের ওপরই নির্ভর করছে।' তালিকায় কী কী আছে কারজাই অবশ্য তা খোলাশা করে কিছু বলেননি। তবে ভারতের ফার্স্টপোস্টডটকম ওয়েবসাইট বলছে, তালিকায় ১০৫ এমএম গোলাবারুদ, মাঝারি ধরনের যুদ্ধবিমান এবং ট্রাকসহ অন্যান্য কিছু সাজ-সরঞ্জামের উল্লেখ রয়েছে। কারজাইয়ের এই অস্ত্রের তালিকা পেয়ে বেশ দোটানায় পড়ে গেছে ভারত। কারণ এতে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি হবে কিনা, তা ভেবে দেখছে দেশটি।
গত ৬ মাসে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের এটা ছিল দ্বিতীয় ভারত সফর। এবার তিনি এসেছিলেন সমস্যা-জর্জরিত আফগানিস্তানের জন্য কার্যত সামরিক সাহায্যপ্রার্থী হয়ে। মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি তুলে ধরেন, কেন আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তায় ভারতের সামরিক সাহায্য দরকার। বিশেষ করে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক যৌথবাহিনী চলে যাওয়ার পর। নিরাপত্তার দিক থেকে যেহেতু তার দেশে তৈরি হবে এক ধরনের শূন্যতা, তাই শুরু হতে পারে তালেবানের সন্ত্রাস এবং জাতিগোষ্ঠী সংঘর্ষ। এমন কি গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আফগান সেনাবাহিনীতে আছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী। যেমন ৩৮ শতাংশ পাখতুন, ২৫ শতাংশ তাজিক, ১৯ শতাংশ হাজারা এবং ১২ শতাংশ উজবেক। যৌথবাহিনী চলে যাওয়ার পর তারা নিজেদের মিলিশিয়া বাহিনীতে ফিরে যেতে পারে, যেখান থেকে তারা এসেছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর আড়াই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা নিয়ে পাক-আফগান সংঘর্ষের প্রসঙ্গ উঠে আসে আলোচনায়। ডুরান্ড লাইনকে পাক-আফগান সীমারেখা বলা হলেও কাবুল কখনই তা স্বীকার করেনি। মাসের পর মাস সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে চলে উভয় দেশের মধ্যে গুলিবিনিময়। এতে বেশ কিছু আফগান সীমান্ত নিরাপত্তা পুলিশ হতাহত হয়। এ জন্য একে অপরকে দায়ী করে চলে দোষারোপ এবং পাল্টা দোষারোপের পালা। শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছে বলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযোগ করতে থাকে। আফগান তালেবানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া বানচাল করতে পাকিস্তান তৎপর বলেও মনে করেন কারজাই। এরই পরিণামে পাক-আফগান সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
২০১১ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-আফগান স্ট্র্যাটিজিক চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মধ্যেই মূলত সীমাবদ্ধ ছিল ভারতের সামরিক সাহায্য। এবার আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে সমর সম্ভারের যে তালিকা দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে আছে ১০৫ মিলিমিটার কামান, এএন ভারী মালবাহী বিমান, সেতু নির্মাণের সাজ-সরঞ্জাম, সামরিক ট্রাক, হেলিকপ্টার ও হেলিকপ্টার ট্রেইনিং।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়ে কারজাই পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিতে চান, জঙ্গিদের মদদ দেয়া থেকে পাকিস্তান যদি বিরত না থাকে, তাহলে আফগানিস্তানে শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভারতের সামরিক উপস্থিতিও বাড়বে।
আর এই ইস্যুতেই মনমোহন সিং সরকার পড়েছে দোটানায়। পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফের নতুন সরকার এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে একটা ইতিবাচক মোড় নেবে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে, আফগানিস্তানকে সামরিক সাহায্য দিলে একটা ভুল বার্তা যেতে পারে।
যদিও আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে চায় ভারত। কিন্তু একই সঙ্গে দেশটি ২০১৪ সালে বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার পর জঙ্গি দলগুলোর উত্থান ঘটা নিয়ে শঙ্কিত। এর ওপর আফগানিস্তানকে অস্ত্র দিলে পাকিস্তান উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের কারণে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে দেশটির সঙ্গে তিক্ততা আরো বাড়তে পারে। তাই আফগানিস্তান নিয়ে ভারত এখন বেশ সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছে_ যা থেকে সহজে বের হতে পারছে না। তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আয়োজনে বিএনপির অনুরোধে সরকার সাড়া দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin