বুধবার, জুন, ১৯, ২০১৩: আষাড় ০৫, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ৯ শাবান, ১৪৩৪ হিজরি, ০৮ বছর, সংখ্যা ১৪ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গার্ডিয়ানের সংশয়যাযাদি ডেস্ক ![]() আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার তিন মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান।মঙ্গলবার দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় এশিয়া বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। ‘ভায়োলেন্স অ্যান্ড প্রটেস্ট কুড ডিরেইল বাংলাদেশ ইলেকশনস’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আশঙ্কা বিরাজ করছে যে, সহিংসতা আর প্রতিবাদের কারণে বছরের শেষে নির্বাচন বিঘিœত হতে পারে। তবে নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দৃঢ়প্রত্যয়ী। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, গত মাসে বাংলাদেশে সহিংসতা আর সামনের মাসে বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে অনেকে শঙ্কিত যে, বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশটি নির্বাচনী সহিংসতার মধ্যে পড়বে। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এখনো সমঝোতা না হওয়ায় এ আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের আশঙ্কাকে যৌক্তিক ভিত্তি দিতে ওই প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সহিংসতাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনেছে। বলা হয়েছে, ৬ বছর আগে সহিংসতা আর প্রতিবাদের কারণে নির্বাচন স্থগিত এবং অবশেষে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাধায়ক সরকার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী গার্ডিয়ানকে জানান, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ‘পুরোপুরিভাবে চলছে’। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন যথাসময়ে এবং সংবিধান অনুসারে হবে।’ রিজভী তত্ত্বাবধায় সরকার সম্পর্কে জানান, মেয়াদ শেষ হলে সরকারের সব নির্বাহী কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যা করতে হয়, তা করবে নির্বাচন কমিশন। বিএনপির এক নেতা গার্ডিয়ানকে জানান, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের চালাকি বুঝে ফেলেছে বিএনপি। ‘একদলীয় নির্বাচনে’র মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে নির্বাচনে যেন বিএনপি অংশ না নেয়, সে চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা বরাবরই পরাজিত হয়। সরকার জানে তারা (নির্বাচনে) হারবে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ গার্ডিয়ান জানিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে এবং রমজানের আগে মাঠে নামার কথা রয়েছে বিএনপির। ওই সময় বিএনপি নিজের শক্তি প্রদর্শন করবে। শরতে সরকার পতনের প্রকৃত আন্দোলনে নামবে দলটি। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিকে অন্যতম প্রধান সমস্যা বলে অভিহিত করা হয়েছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে : ‘গত ফেব্রুয়ারিতে এটি (‘বিতর্কিত’ মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালত) রায় ঘোষণা পর (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে) সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭০ জন প্রাণ হারান।’ সাভারের রানা প্লাজাধসে এক হাজার ১৩০ জনে বেশি শ্রমিকের প্রাণ হারানোর ঘটনা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে টালমাটাল করে দিতে পারে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে তিনটি বিষয়কে বাংলাদেশের জন্য মুখ্য হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ইসলামি দলগুলোর অবস্থান, যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ও তরুণ ভোটারদের মতামত নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখবে এবং এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্যকেও উপস্থাপন করা হয়েছে প্রতিবেদনে। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের কথাও উঠে এসেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোচনায়। হেফাজতে ইসলামের সহকারী প্রধান শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ‘দ্য গার্ডিয়ান’ক বলেন, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে ইসলামকে বাঁচাতে তারা ২০১১ সাল থেকে আন্দোলন করছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র ছিল, কিন্তু এটি এখন ‘বাঙালিদের’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ধর্মে অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো নাস্তিকরা...তাদের কোনো আদর্শ নেই।’ শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে আপত্তির কথাও জানান আশরাফ। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ‘মনে হয় একটি বিষয়ে সবাই একমত : সংগ্রাম; পথে নেমে পরাজয় হোক কিংবা জয়।’ ইমরানের প্রতিবাদ এদিকে গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলনের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ব্রিটেনের প্রভাবশালী এই দৈনিকটি মঙ্গলবার একটি সংবাদের এক অংশে ইমরান ‘আত্মগোপন’ করেছেন বলে দাবি করে। গার্ডিয়ানের এমন তথ্য ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মিডিয়া সেলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইমরান বলেন, “নিবন্ধে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে আমার অবস্থানকে ‘আত্মগোপন’ বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে, যা ভিত্তিহীন, অমূলক এবং অনভিপ্রেত।” গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করণে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সহিংসতা-বিক্ষোভে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে’। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে চলমান গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলনের মুখপাত্র ইমরান ‘আত্মগোপন’ করে আছেন বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ডা. ইমরান বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘সো-কল্ড ট্রাইব্যুনাল’ হিসেবে উল্লেখ করে গার্ডিয়ান স্পষ্টত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মানুষের চেতনাকে আঘাত দিয়েছে। দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার মূল কেন্দ্র এই ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ‘গার্ডিয়ান’ গণমাধ্যম হিসেবে তাদের নেতিবাচক অবস্থান প্রমাণ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” লিখিত বক্তব্যে ইমরান আরো বলেন, ‘গার্ডিয়ানের নিবন্ধে একদিকে যেমন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোপ্রসূত নির্বাচন নিয়ে অমূলক প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তেমনি লাখো তরুণের অহিংস আন্দোলনকে সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নগ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ১৯ টুকরা
করার সরকারি সুপারিশ আদৌ গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত
বলে মনে করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |