মতামত :
¦
¦
পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে তেজগাঁও রণক্ষেত্রযাযাদি রিপোর্ট সোমবার তেজগাঁও এলাকায় গার্মেন্ট শ্রমিকরা বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধ রাখার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। আহত এক কর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -যাযাদিবেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় পুলিশ-শ্রমিকদের মধ্যে ৩ ঘণ্টার সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সোমবার সকাল ৮ থেকে ইউডে গার্মেন্ট শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে ভাংচুর শুরু করলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলা এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ঘটনায় ৩ শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ ২০ থেকে ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে শ্রমিকরা ২০ থেকে ৩০টি গাড়িও ভাংচুর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, গুলশান লিংকরোডের পাশে অবস্থিত ইউডা গার্মেন্ট শ্রমিকরা অনেকদিন ধরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন মালিক পক্ষের কাছে। গত দুদিন আগে হঠাৎ করে গার্মেন্টটি বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে প্রধান গেটে তালা দেখতে পান। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর শুরু করেন। খবর পেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। শ্রমিকরা কথা না শুনলে লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, ইউডা গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশের হামলার খবর পেয়ে আশপাশের সেভাল, হা-মিমসহ আরো কয়েকটি গার্মেন্টের শ্রমিকরাও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ারও ঘটনা ঘটে। শ্রমিকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশের নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাবের ইউনিট। সহিংসতা গুলশান লিংকরোড, সাতরাস্ত, নাবিস্কোসহ বিভিন্ন
এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিকরাও পাল্টা জবাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশের লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেলে ২০ থেকে ৩০ শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইউডা গামেন্টের শ্রমিক বিদ্যুৎ ( ২৮), তানিয়া (১৮) ও শেফালী গার্মেন্টের সারমিন (২০ ) ভর্তি হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে মহাখালী, লিংকরোডে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়ে গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীরা। গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আস্তে আস্তে বিভিন্ন দিকে চলে গেলে পরিস্থিতি বেলা ১১টার শান্ত হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মনিরুজ্জামান যায়যায়দিনকে জানান, সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা গাড়ি ভাংচুর করছে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে বৈঠকের আশ্বাসের পেক্ষিতে তারা শান্ত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, হাজিরা বোনাস বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুর সদর উপজেলার বোর্ডবাজার এলাকায় ইউনিগিয়ার্স নামে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সোমবার সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে অবরোধ এবং বেশ কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাংচুর করেন।
পরে খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ, গাজীপুর শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। সকাল পৌনে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলে ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. সেলিম খান জানান, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা মহাসড়কে নেমে ইটপাটকেল ছুড়ে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর শুরু করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে।
এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে সকাল ৯টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে কারখানা এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ-র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মোশারফ হোসেন জানান, হাজিরা বোনাস ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং মাসে ৪০০ টাকা করে লাঞ্চ বিল চালুর দাবিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে কর্তৃপক্ষ ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে রোববার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিয়ে কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় শ্রমিকরা সোমবার আবারো আন্দোলনে নামেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নতত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে নির্বাচনই হবে না_ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে আপনি কি অশনিসঙ্কেত মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin