পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
সৌদিতে বাংলাদেশিদের হাহাকারঅজুহাত জনবল সঙ্কট পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করতে পারছে না দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিস : ৩ জুলাই পর্যন্ত বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বৈধতার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাশফিকুল ইসলাম জুয়েল তিন দাবি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার শ্রমিক হাহাকার করছেন সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস (জেদ্দা) ও জেনারেল কনস্যুলার (রিয়াদ) অফিসে। পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ হচ্ছে না সেখানে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিকের। অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেয়ার লক্ষ্যে সৌদি সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার পর থেকে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেনারেল কনস্যুলার অফিসে জনবল সঙ্কট তীব্র। এছাড়াও অফিস দুটির কর্মকর্তাদের রয়েছে 'সত্যতা যাচাইয়ের নামে ঢিলেমি ও দীর্ঘসূত্রতা। সব মিলিয়ে বৈধতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনে কিছু শ্রমিক বৈধতার কাগজপত্র হাতে পেলেও অধিকাংশই এখনো বঞ্চিত রয়ে গেছেন। অথচ কাজকর্ম ছেড়ে অবৈধ শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে ফিরছেন দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিস থেকে। ফলে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অবৈধভাবে লুকিয়ে থাকার পর বৈধতার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
টেলিফোনে শ্রমিকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, শ্রমিকদের ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিসের কর্মকর্তারা। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে তাদের চাহিদামতো সেবা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু সৌদি আরবের দুই অফিসেই তীব্র জনবল সঙ্কট থাকায় প্রতিদিন লাইনে দাঁড়ানো শ্রমিকদের সব চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, ৩ জুলাই পর্যন্ত সৌদি সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সময় বলবৎ থাকবে। এ সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের সব অবৈধ শ্রমিকের হাতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সরবরাহ করতে হবে।
শ্রমিকদের সহায়তায় সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. জাফর আহমেদ খান যায়যায়দিনকে বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশ। এদেশে অনেক অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে। সরকারের নানা প্রচেষ্টায় তাদের বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সৌদি দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- যেকোনো মূল্যে সেখানে অবস্থানরত সব অবৈধ শ্রমিককে বৈধ করার প্রক্রিয়া শেষ করতে। এজন্য নানা পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। পাঠানো হচ্ছে জনবলও।
সেদেশে অবস্থানরত শ্রমিকরা জানান, সৌদি সরকারের বৈধতার সুযোগ নিতে হলে প্রত্যেক শ্রমিককে নতুন পাসপোর্ট, ট্রাভেল পারমিট কিংবা নবায়নকৃত পাসপোর্টের যেকোনো একটি অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ শ্রমিকেরই তা নেই। এজন্য এসব কাগজ ও পাসপোর্ট নিতে ভিড় জমাচ্ছে তারা। কিন্তু দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিস সেসব কাগজপত্র সরবরাহ করতে প্রচুর বিলম্ব করছে। অনেক কর্মকর্তা আবার সত্যতা যাচাইয়ের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজপত্র আটকে রাখছেন। এতে করে বৈধতার সব কাগজপত্র নির্দিষ্ট সময়ের আগে হাতে না পাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও উদ্বেগ দানা বাঁধছে। কর্মীদের আশঙ্কা, বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্টরা এখনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যক্রম গ্রহণ না করলে কাগজপত্রের অভাবে বহু প্রতীক্ষিত বৈধতার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে অসংখ্য শ্রমিকের ভাগ্য অনিশ্চিয়তায় পড়বে।
শ্রমিকদের অভিযোগ অনেকটাই স্বীকার করে নিয়ে সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, তারা প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের জন্য। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সঙ্কট নিরসনে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় জনবল নিয়োগ করে কাগজপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার শ্রমিকদের চাপ সামলাতে সকাল ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এমনকি ছুটির দিনও অফিস চালু রেখে শ্রমিকদের কাগজপত্র দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সঙ্কট সমাধানে এরই মধ্যে জনবল চেয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দেয়া হয়েছে। জনবল এলেই দ্রুত শ্রমিকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের চিঠির প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যায়যায়দিনকে বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ১৮ জন কর্মকর্তাকে সৌদি আরব পাঠানো হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশিক্ষিত এসব জনবল সৌদি শ্রমিকদের চাহিদা পূরণে বিশেষ সহায়তা করবে।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদিতে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি এখনো জানেন না সৌদি সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার খবর। এজন্য স্থানীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে দূতাবাস ও কনস্যুলার অফিসকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সময়সাপেক্ষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের বিপরীতে হাতে লেখা পাসপোর্ট দ্রুত সরবরাহ করতে। পাশাপাশি পুরাতন পাসপোর্ট নবায়ন করে দিতে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সৌদি সরকারের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ পেলে অবৈধ শ্রমিকরা বৈধ হবেন। তারা আকামা (ওয়ার্ক পারমিট) পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। এতে কোনো কর্মীকে আর একজন চাকরিদাতা কর্তার অধীনে জিম্মি থাকতে হবে না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। এদেশে বাংলাদেশের অন্তত ১৫ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন। তাদের আয় থেকে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আসে বাংলাদেশে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সুবিধা গ্রহণ করেন। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের অসংখ্য শ্রমিক অবৈধ হিসেবে কর্মরত আছেন সৌদি আরবে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদে গিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin