মতামত :
¦
¦
'স্পষ্টতই আশা করছি এটা হবে বায়ার্ন'বিশ্ব ফুটবলের সেরা ফুলবেকদের একজন ফিলিপ লাম। দুটি বিশ্বকাপসহ চারবার ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে জামার্নির প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০০৩ সালে যোগ দিয়ে এখনো সাফল্যের সঙ্গে বায়ার্ন মিউনিখকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লাম। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ২৫ মে বুন্দেসলিগার আরেক জায়ান্ট বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে তার দল। সোমবার ফিফা ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লাব, দেশসহ নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ২৯ বছর বয়সী এই জার্মান ফুটবলার।সামাজিক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ফুটবল কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে?
ফিলিপ লাম : ফুটবল জনগণকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে। সারাবিশ্বের মানুষই ফুটবল খেলে। অনেক মানুষ বিশেষ করে বাচ্চা এবং তরুণরা খেলাটাকে সত্যিই উপভোগ করে। আর আমাদের গ্রীষ্মকালীন এই ক্যাম্পের উদ্দেশ্য শুধুই খেলাধুলা নয়। সেখানে তিনটি কর্মসূচি আছে- খেলাধুলা, পুষ্টি এবং চরিত্র গঠন। এই বিষয়গুলোর ওপর তারা খুব জোর দেয় এবং আমার জীবন ও ক্যারিয়ারে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
একজন পেশাদার ফুটবলারকে কখনোই সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার সুযোগ দেয়া হয় না। তো আপনি কীভাবে অন্যদের সাহায্য করার পথ খুঁজে পেলেন?
লাম : আমার পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধব আছে। তাই ভালো কিছু অন্যকে দেয়ার চেষ্টা করছি। বিশ্বে অনেক শিশু রয়েছে যারা চরম দুর্ভাগ্যের শিকার। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে তাদের কিছু দেয়াটা আমাদের কর্তব্য। আর এটা আমি খুবই উপভোগ করি।
কিছুদিন আগে সমর্থকদের সঙ্গে বুন্দেসলিগা জয়ের উৎসবে মেতেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। মিউনিখ টাউন হলের বেলকনিতে আপনিও ছিলেন সেই উৎসবের সঙ্গী। আবারো জার্মান লিগের শীর্ষে উঠার অনূভূতিটা কেমন ছিল?
লাম : লিগ জেতাটা সবসময়ই বিশেষ কিছু, আর শীর্ষে থেকে মৌসুম শেষ করাটা আরো কৃতিত্বের। কেননা, শীর্ষ থেকে শেষ করার মানে আপনি মৌসুমের ৩৪টি ম্যাচেই সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স করেছেন। তাছাড়া এই মৌসুমে আমরা কিছু নতুন রেকর্ডও গড়েছি। স্পষ্টতই এ মৌসুমটা স্পেশাল, তবে আমাদের এখনো বাকি আছে।
বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের স্কোয়াড বেশ শক্তিশালী- এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু তারকা ফুটবলারদের সাইড বেঞ্চে শান্তিপূর্ণভাবে বসিয়ে রেখেও আপনাদের কোচ ইয়ুপ হেইঙ্কেস নিয়ন্ত্রণ করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। এটাই কি তাহলে সাফল্যের গোপন রহস্য?
লাম : ২৪ জনের সেরামানের একটি দল নিয়ে এ কাজ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি যদি সুস্পষ্ট করে বলি- কোচিং স্টাফ এ বিষয়ে চমৎকারভাবে কাজ করেছে। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তারা খেলোয়াড়দের বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, দলের জন্য সবার সহানুভূতি গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনটি ভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের এটাই মূল কারণ।
কিছুদিন পরই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল। অল জার্মানদের লড়াইটা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, যা শ্লেষাত্মকভাবে লন্ডনের ওয়েম্বলিতে হতে যাচ্ছে?
লাম : গত বছর আমাদের ঘরের মাঠ মিউনিখের ফাইনাল নিয়ে দারুণ আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যভাবে আমরা হেরে যাই। এবারের ফাইনাল ওয়েম্বলিতে হওয়ায় স্পষ্টতই উত্তেজনাপূর্ণ হবে। দুটিই জার্মান দল হওয়াই জার্মান ফুটবলের জন্য গর্বের কিন্তু খেলোয়াড়দের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের জন্য আপনারা সেই দিনটাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন?
লাম : রক্ষণভাগে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যেটা আমরা পুরো মৌসুমেই করে এসেছি। এছাড়া আমাদের অনেক আক্রমণাত্মক স্বভাব রয়েছে। আমরা সবসময়ই গোল করার ক্ষেত্রে ভালো দল।
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর লড়াইয়ে দুটি বুন্দেসলিগার দল প্রতিযোগিতা করবে? এটাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
লাম : গত কয়েক বছরে জার্মানির যুব এবং জুনিয়র ফুটবলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আমাদের যুব একাডেমিগুলো অনেক বেশি পেশাদার হয়েছে। আর এটাই আমাদের আরো সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অধিকন্তু, বায়ার্নের অর্থনৈতিক কাঠামোও বেশ শক্তিশালী এবং আমরা অভিজ্ঞদের নির্বাচক করছি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত চার বছরের তিনবারই ফাইনাল খেলেছি- এগুলো সব সাফল্যেরই অংশ। কিন্তু এটা সত্যি যে, জার্মান ফুটবল অনেক দূর এগিয়েছে। আমাদের একটা বেশ ভালো জাতীয় দল আাছে, কিন্তু তারপরও আমাদের কিছু জেতার বাকি আছে। একটি জার্মান দল এবার ইউরোপ সেরার মুকুট পরবে এবং স্পষ্টতই আশা করছি, এটা হবে বায়ার্ন।
যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেন তাহলে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে?
লাম : যদি আমরা এই (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) শিরোপা জয়লাভ করি, তাহলে এক সপ্তাহ পর জার্মান কাপ জিততে চাই আমরা। তখন আমরা ছুটিতে যাব...। এই দলটি ক্ষুধার্ত, যা সারা মৌসুমেই আমরা দেখেছি। আমরা ট্রিপল জয়ের আশা করছি এবং আমি খুব আশাবাদী। আগামী কয়েক বছর দেশ-বিদেশে এবং ইউরোপে এই দলটা ব্যাপক সাফল্য পেতে পারে।
অনেক বিশ্লেষকরাও বলছেন, জার্মানির ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল। আগামী বছরই ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
লাম : সবার আগে বাছাই পর্বের বাধা পেরোতে চাই। একজন ফুটবলার হিসেবে আমার জন্য এটি চমৎকার। ২০০৬ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলেছি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালে খেললাম এখন আবার নতুন মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকায় খেলব। একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিভিন্ন উপ-মহাদেশে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা করাটা বেশ আনন্দের। এর অনুভূতিটা অনেক চমৎকার, এতে আমি অনেক উত্তেজিত।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin