মতামত :
¦
¦
মনমোহনের ওপর ্পূর্ণ আস্থা সোনিয়া ও রাহুলেরযাযাদি ডেস্ক ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ওপর পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস রয়েছে কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধী এবং সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা দুজনই মনমোহনকে সমর্থন দেবেন। বুধবার ইউপিএ সরকারের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, এবিপি
ইউপিএ সরকারের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া বলেন, 'বিভিন্ন সমালোচক এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- আমার এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে দল জয়ী হলে রাহুলকেই প্রধানমন্ত্রী করা হবে ইত্যাদি। কিন্তু দলের সভাপতি হিসেবে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যথাযথভাবেই তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি তার যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা বলে সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। বিরোধী দলের কটূক্তিকে অগ্রাহ্য করে, স্বকীয়তা বজায় রেখে তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখেন তিনি। আমরা সবাই তাকে শ্রদ্ধা করি এবং সব সময়ই তার পাশে আছি ভবিষ্যতেও থাকব।'
কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, 'দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। কিন্তু এ কথাও মনে রাখতে হবে, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করেনি সরকার। এ নিয়ে সরকারের লুকোনোরও কিছু নেই। তাই রণাত্মক হওয়ার প্রশ্ন নেই।' সোনিয়া বলেন, 'সরকারের বিরুদ্ধে বহু মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচার চালানো হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য, মানুষকে বিভ্রান্ত করা। ইউপিএ সরকার নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা। তাই দৃঢ়ভাবে এসবের মোকাবিলা করতে হবে।'
এ সময় বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ না করেই এনডিএ শাসনামলের সঙ্গে ইউপিএ আমলের নয় বছরের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। একের পর এক পরিসংখ্যান তুলে তিনি জানান, দেশে আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি কমছে। শিগগিরই দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।' নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তার বার্তা হলো, ইউপিএ সরকার এমন পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এদিকে মা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, 'দল এবং প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গে দূরত্ব বা সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে যেসব গুজব শোনা যাচ্ছে, সেসব বিরোধী দলের সৃষ্টি। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমাকে ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে, সেসব সম্পর্কে আমার অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করেছি। আমি বলতে চাই প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের ওপর আমাদের সব সময়ই আস্থা রয়েছে আশা করি আগামী নির্বাচনেও তা বজায় থাকবে।'
ভোটের দামামা বাজালেন সোনিয়া
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সব ধরনের অস্থিরতা ও নেতিবাচক পরিস্থিতির জন্য বিজেপিকে দায়ী করে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের এই শেষ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান থেকেই লোকসভার ভোট-প্রচার শুরু করলেন বা ভোটের দামামা বাজালেন সোনিয়া গান্ধী। তার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চাইলেন, বিরোধীদের অপপ্রচারে তিনি মোটেও ভীত নন। বরং তিনি হতাশ। কারণ বিজেপি পার্লামেন্টে অচলাবস্থা তৈরি করায় খাদ্য নিরাপত্তা ও জমি বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে পারেনি সরকার। কিন্তু এসব বিষয় রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। কারণ বিষয়গুলোর সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে সোনিয়া যে 'উচ্চকণ্ঠ' হবেন, তা আগে থেকেই বলা হচ্ছিল। বলা হচ্ছে, কৌশলী কংগ্রেস সভানেত্রী বুধবার সেটাই করেছেন। ইউপিএ-র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান থেকে বার্তা দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপির বাধাতেই গরিব মানুষের মুখে অন্ন সুনিশ্চিত করতে পারছে না সরকার। সোনিয়ার কথায়, 'বিজেপি ও এনডিএ-র কাছে বিনীত অনুরোধ, তারা যেন খাদ্য নিরাপত্তা ও জমি বিল পাস করাতে দেন।' এ কথার অর্থ এই, দুই বিল নিয়ে অর্ডিন্যান্সের পথে যাবে না সরকার। বরং বিজেপি পার্লামেন্ট অচলাবস্থা তৈরি করলে সেটাই ভোটের অস্ত্র হবে কংগ্রেসের।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin