মতামত :
¦
¦
বেড়েছে সবজি ও রসুনের দামযাযাদি রিপোর্ট কয়েক ঘণ্টার টানা বর্ষণে রাজধানীর বাজারগুলোতে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও কেনাবেচা বাধার মুখে পড়ে। আর এতে বাজারগুলোতে এসব পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বাড়তে দেখা গেছে। বাজারে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে কয়েকটি শাক-সবজির দাম। একই সঙ্গে বেড়েছে রসুনের দাম। প্রতিকেজি রসুনের দাম আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে মুদি আইটেমসহ অন্য পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে জিনিসপত্র আনা নেয়া করতে সমস্যায় পড়েন ক্রেতা বিক্রেতারা। এছাড়া বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তার পাশের বিভিন্ন খোলা শাক-সবজির দোকান বসতে পারেনি। আর এতে বিপাকে পড়েন দোকানি, সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতারা। এ সুযোগে বাজারগুলোর স্থায়ী দোকানের বিক্রেতারা দাম কিছুটা বেশি রাখছেন ক্রেতার কাছ থেকে। সম্প্রতির আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে দক্ষীণাঞ্চলের ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে রাজধানীতে সরবরাহও আগের তুলনায় খানিকটা কম। এতে সবজির দাম কমছেনা বলে মনে করেন দোকানিরা। তবে ছুটির দিন ও বৃষ্টি থাকায় বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে সর্বশেষ বেড়েছে দেশি রসুন, প্যাকেট গুঁড়ো দুধ ও পিয়াজের দাম। সংস্থাটির বুধবারের বাজার দরের তালিকা থেকে দেখা যায়, দেশি রসুন কেজিতে ৫-১০ টাকা এবং পিয়াজ কেজিতে বেড়ে যথাক্রমে ৬৫-৮০ টাকা ও ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংস্থাটির হিসেছে ডানো, ডিপ্লোমা, মার্কস, ফ্রেসসহ বিভিন্ন কোম্পানির গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।
রাজধানীর নিউমার্কেট, রায়সাহেব বাজার, সেগুন বাগিচা, ফকিরাপুল, মালিবাগ, মগবাজার, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিকেজি রসুনের দাম আগের সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকার মতো বেড়েছে। প্রতিকেজি দেশি রসুন ৭০-৭৫ টাকা ও আমদানি করা বড় কোষের চীনা রসুন ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে দাম ছিল ছোট দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা, আমদানি করা বড় রসুনের কেজি ৯৫-১০০ টাকা। তবে স্থিতিশীল রয়েছে পিয়াজের দাম। বাজারে প্রতিকেজি দেশি পিয়াজ ৩২-৩৩ টাকায় এবং আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকায়।
বাজারে প্রতিকেজি আলুর ১৫-১৬ টাকা। কাঁচামরিচ ৫৮-৬০ টাকা, পেঁপে ৩০-৩২ টাকা, বেগুন ৩৬-৪০ টাকা, করলা ২৫ টাকা, শসা ১৮-২০ টাকা, গাজর ২৩-২৫, কাকরোল ৩৮-৪০টাকা, বরবটি ৫০- টাকা কেজি, টমেটো মান ভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫-৫০ টাকা, পটল ৩০-৩৫ টাকা, লাল শাক ২০-২৫ টাকা, পুঁই শাক ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে স্থিতিশীল রয়েছে মুদি সামগ্রী। দোকানে খোলা সয়াবিন ১১০-১১৫ টাকায়, পাম ওয়েল কেজি ৮০-৮৫ টাকা, পাম ওয়েল সুপার ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানির ভেদে বোতলজাত সয়াবিন প্রতি কেজি ১৩৩-১৩৫ টাকা, তীর ৫ লিটার ৬৬০ টাকা, রূপচাঁদা ৬৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডালের বাজারে ভালো মানের মসুর ডাল ১৩৫ টাকা, দেশি ১৩০ টাকা, মোটা ডাল ৮০ টাকা, চিকন মুগ ১১৫-১২০ টাকা, মোটা মুগ ৯০-৯৫ টাকা, ছোলা ৮৫ টাকা, খেসারি ৮০ টাকা, কলাই ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার ১০০ টাকা। খোলা দেশি চিনি ৫২ টাকা, আমদানি করা ৪৮ টাকা। ১ কেজির প্যাকেট চিনি ৫৪ টাকায়। আটা দুই কেজির প্যাকেট ৭৮ টাকা, খোলা আটা প্রতিকেজি ৩২ টাকা। খোলা ময়দা কেজি ৪০-৪২ টাকা, দুই কেজির প্যাকেট ৯০-৯২।
মাছের বাজার আগের মতোই আছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় কিছুটা বেড়েছে ইলিশের দাম। প্রতিটি আধা কেজি ওজনের ইলিশ ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া রুই প্রতিকেজি ২২০-২৫০ টাকা, নলা (ছোট রুই) ১৫০-১৬০ টাকা, বড় কাতলা প্রতিকেজি ৩০০-৩৫০ টাকা, ছোট ২২০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-১৪০ টাকা, কাচকি ২০০-২৪০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২২০, সরফুটি ১৬০-২০০ টাকা, শিং ৫০০-৫৫০ টাকা, চিংড়ি আকার ভেদে ভেদে কেজি প্রতি ৩০০-৬০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
স্থিতিশীল রয়েছ মাংসর বাজার। তবে ক্রেতা কম থাকায় কিছু বাজারে আগের সপ্তাহের চেয়ে ব্রয়লার মুরগি কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৪৫-১৫০ টাকা, ৩৫০-৪০০ গ্রামের প্রতিটি দেশি মুরগি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, লেয়ার প্রতিকেজি ১৮০ টাকা। গরু মাংস বিক্রি হচ্ছে হাঁড়সহ ২৮০ টাকা, হাঁড় ছাড়া ৩৫০ টাকা, খাসি ৪৩০-৪৫০ টাকা। ডিমের বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকায়। আর দেশি মুরগি ও হাসের ডিমের হালি ৩৮-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin