বুধবার, মে, ২২, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৮, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১১ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৯ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
৪ সি টি ক র পো রে শ নে ভো টমেয়রপ্রার্থী কামালকে
সংবর্ধনা বিএনপিরবরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনআরিফুর রহমান বরিশাল ![]() বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের কাছে গণসংযোগ করেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আহসান হাবিব কামাল _ফোকাস বাংলাচূড়ান্ত প্রার্থিতা ঘোষণা না হলেও বরিশালের বাতাসে এখন বইছে নির্বাচনী আমেজ। ৩-৪দিন ঢাকায় অবস্থানের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির নেতৃত্বে গাড়ি বহর নিয়ে বরিশালে এসেছেন মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল। পরে তাকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হয়। ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। নির্বাচনের শুরু থেকেই নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ও দলের পক্ষে কে মেয়র প্রার্থী হবেন তা নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা না দিলেও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন সাবেক মেয়র ও জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবায়েদুল হক চান ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান শাহিন। ফলে আলোচনা আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। পরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় তলব করা হয় বিএনপির এই তিন নেতাকে। সেখানে কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে, তার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কামরুল আহসান শাহিন তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। দলীয় নেতারা জানান, কামালের পক্ষে কাজ করার ব্যাপারে শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু চাঁন তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি নাকোচ করেন। যার ফলে কামাল ও চাঁনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি আলোচনায় থেকেই যায়। আর এ কারণেই গত কয়েকদিন ধরেই বরিশালের সর্বত্র চলছে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়। সোমবার সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন আহসান হাবিব কামাল। মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে এ সময় তার সঙ্গে আরো ছিলেন জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। পথিমধ্যে গৌরনদীর বাটাজোর, উজিরপুরের ইছলাদি, নগরীর প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপাড়ে পথসভা করেন তিনি। এছাড়া সেখান থেকে সহস্রাধিক মোটরসাইকেলের বহর সহকারে তাকে স্বাগত জানিয়ে বরিশালে নিয়ে আসা হয়। পরে সন্ধ্যায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি। আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা উত্তর বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এমপি, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস, ড্যাব নেতা ডাক্তার আজিজুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান শাহিন, বিএনপি নেতা আলী হায়দার বাবুলসহ বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা। হাইকোর্টের রায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন রেজভী এদিকে, অবশেষে হাইকোর্টের রায়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন কাউন্সিলর প্রার্থী রেজাউল কবির চৌধুরী রেজভী। তিনি ২৩ নাম্বার ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ১২ মে ছিল মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদে ৫ জন, ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৪৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে সাধারণ আসনের ৮ ও সংরক্ষিত আসনের ৩ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে ঘোষণা করে নির্বাচন অফিস। তথ্য গোপন করা ও সিটি করপোরেশনে নিজস্ব লাইসেন্সে কাজ থাকাসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্ধারিত সময় এরা প্রত্যেকেই আপিল করলে সাধারণ আসনের তিন জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। বাতিল হওয়া মনোনয়নের মধ্যে ২৩ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রেজাউল কবির রেজভী হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট মঙ্গলবার তার করা রিটের পক্ষে রায় দিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ ফিরে পান। রেজভী জানান, বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে করা একটি নিষ্পত্তি হওয়া মামলার বিষয় হলফনামায় উল্লেখ না করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। পরে তিনি আপিল করলেও বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন বিভাগীয় কমিশনার। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তার পক্ষে রায় দেন। এর ফলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো বাধা রইল না। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের হিড়িক প্রার্থীদের : আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীকে নোটিশ এদিকে, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীকে নোটিশ করেছে নির্বাচন অফিস। সোমবার এ নোটিশ তাদের কাছে পেঁৗছানো হয়। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে নির্বাচনী মাঠে। ১৪ দল সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন সমতালে নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কর্মী সমর্থকরা বিলি করছে প্রার্থীদের ছবিসংবলিত লিফলেট। কর্মিসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের নামে এলাকায় এলাকায় চালাচ্ছেন নির্বাচনী কার্যক্রম। প্রার্থীদের পক্ষে স্থানীয় পত্রিকায় ছাপানো হচ্ছে দোয়া চাই বিজ্ঞাপন। দরিদ্র ভোটারদের সাহায্যের নামে দিচ্ছেন আর্থিক সহায়তা। এতে কম যাচ্ছেন না কাউন্সিলর প্রার্থীরা। সমপ্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনকে পুঁজি করে ওয়ার্ডবাসীর মাঝে চাল, ডাল, চিড়া ও মাংস বিলি করেছে বেশকিছু কাউন্সিলর প্রার্থী। নিয়ম ভঙ্গের এ খেলায় এগিয়ে আছেন ৯ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দ জামাল হোসেন নামান, ১৮ নাম্বার ওয়ার্ড প্রার্থী মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, ২১ নাম্বার ওয়ার্ড প্রার্থী আলতাফ মাহমুদ, ২৯ নাম্বার ওয়ার্ড প্রার্থী ফরিদ আহমেদ ও সংরক্ষিত ৫ আসনের প্রার্থী মাহমুদা চৌধুরী মাধুসহ বেশ কয়েক সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করে আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসার মুজিবর রহমান বলেন, তার কাছে ওই দুই মেয়র প্রার্থীসহ বেশ কয়েক কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগ এসেছে। সোমবার তিনি মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন ও মাহমুদুল হক খান মামুনসহ ১০-১২ জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন। নোটিশ পেয়ে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী অফিসে এসে তাদের ভুল স্বীকার করে নিজেদের শুধরে নেয়ার অনুরোধ জানালে তাদের প্রাথমিকভাবে সুযোগ দেয়া হয়। অন্যদিকে মেয়র প্রার্থী দুজনার কেউ মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের কাছে পাঠানো নোটিশের জবাব দেননি। দুই একদিনের মধ্যে জবাব না পেলে আদালতের আশ্রয়ও নেয়া হতে পারে বলে রিটার্নিং অফিসার জানান। তাছারা সরকারি গেজেট পেঁৗছালে দুই একদিনের মধ্যেই নির্বাচনী অইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নামানো হবে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে
আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |