মতামত :
¦
¦
বিএনপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা মানবে না : আজ কর্মসূচিসংবাদ সম্মেলনে শামসুজ্জামান দুদুযাযাদি রিপোর্ট মঙ্গলবার রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু _ফোকাস বাংলাবিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র মানলে কোনো অবস্থায়ই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। বুধবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে পুলিশি বাধার তথ্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জাসাস ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) উদ্যোগে গতকাল সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হওয়ার কথা ছিল। প্রথমে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় মিলাদের আয়োজন করা হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে ভাসানী ভবনে মিলাদের আয়োজন করতে গেলে সেখানেও বাধা দেয়া হয়।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আশরাফুজ্জামান জানান, বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচির নাম করে পরে রাস্তায় বেরিয়ে যানবাহন ভাংচুর করা হবে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওই অনুষ্ঠান এড়িয়ে যেতে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া আজ ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। তারাও বিভিন্ন কর্মসূচির নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করে বলেন, সরকার কেবল সভা-সমাবেশই নয়, মিলাদ মাহফিল পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত মিলাদ মাহফিল করতে দেয়নি পুলিশ। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আশু আরোগ্য কামনায় ওই মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হলেও এক প্রকার হুমকি_ধমকি দিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়।
সভা-সমাবেশ বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে দুদু বলেন, সংবিধানে সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। তারা সংবিধান মানেন। আর সংবিধান মানলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা মানার সুযোগ নেই।
ঘোষণা ছাড়াই সরকার দেশে জরুরি অবস্থার কার্যক্রম চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে তোয়াক্কা করে না। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মিলাদ মাহফিল পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। কেবল তা-ই নয়, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুধু তালা লাগানো বাকি রেখেছে। কোনো নেতাকর্মী স্বচ্ছন্দে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 'অবৈধ' ঘোষণার বিরুদ্ধে কর্মসূচি কী_ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তারা কর্মসূচির ভেতরেই আছেন। বুধবার রাতে গুলশানে স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের বিচার অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সবেমাত্র এই রায়টি হয়েছে। রায়টি একটু পড়ে নিয়ে এ বিষয়ে পরে প্রতিক্রিয়া জানাব।
উচ্চ আদালত কর্তৃক জামিনপ্রাপ্ত দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান এবং মোহাম্মদ শাহজাহানকে আবারো সরকার 'শোন অ্যারেস্ট' দেখিয়ে আটক রাখার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন শামসুজ্জামান দুদু। ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু এবং মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বিএনপি নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান তিনি।
আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভিসহ আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য ১৫ সম্পাদক যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা না জেনে দিয়েছেন বলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর দাবি সম্পর্কে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তথ্যমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত দাবি উদ্ভট। দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকের ১৫ জন সম্পাদক, যাদের অনেকেরই ৪০-৫০ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা না বুঝে বিবৃতি দিয়েছেন_ এটা ঠিক নয়। ইনু সাহেব এক দিনের জন্য সাংবাদিকতা করেছেন কিনা, তা জানা নেই। তিনি এমনসব সম্পাদক সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, যারা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দিকপাল, একেকজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাই তথ্যমন্ত্রীকে বলবেন, এক-দুই মাসের জন্য যে চেয়ারে বসেছেন, নিজের দল, মার্কা ও ভাবনা বাদ দিয়ে মাথা খারাপের মতো কথা বলবেন না। এ রকম কথা বললে মন্ত্রী নামক চেয়ারের অসম্মান করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
বিরোধী দল সবল বলেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ : মোশাররফ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিরোধী দল এতটাই সবল যে, এর ভয়ে সরকার আগামী এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষেধ করেছে। সরকারকে বলব, এসব করে শেষ রক্ষা হবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলানায়তনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা বুলুর মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় ড. মোশাররফ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এক মাস সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার, এটা কেমন গণতন্ত্রের নমুনা? তারা স্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, সরকার বুঝতে পেরেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল হলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই তারা সংসদ বহাল রেখে খালি মাঠে গোল দিয়ে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে বিভোর।
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় বিএনপি হতাশ_ আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দল এ ধরনের সিদ্ধান্তে কখনোই হতাশ নয়। সরকার বিরোধী দলকে ভয় পায় বলেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পক্ষে দাবি করে ড. মোশাররফ বলেন, দুই দলের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে হবে। সরকার বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য বিএনপি নেতাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রশাসনের 'অতি উৎসাহী' পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, কাগজপত্র পেঁৗছার পরও তাকে জেল থেকে দুই ঘণ্টা পর মুক্তি দেয়া হয়েছিল। কারণ, ঢাকার একজন ডিবি কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেল সুপারকে বিলম্বে মুক্তি দিতে অনুরোধ করেছিলেন। পরে ওই জেলার দুই ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেন।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, যারা অতি উৎসাহী হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাদের হয়রানি করছে, তাদের বলব_ ডিবিতে থাকিস বা অন্য কোথাও থাকিস, তাতে সমস্যা নেই। দোয়া করি, বেঁচে থাক। তোদের প্রতিটি ঘটনার হিসাব কড়ায়গ-ায় আদায় করা হবে। রাস্তার ল্যামপোস্টের সঙ্গে বেঁধে তোদের বিচার করা হবে।
বর্তমান সরকার এখন ইনটেনসিভ কেয়ারে আছে দাবি করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাতের অাঁধারে হেফাজতের সমাবেশে যে হামলা চালানো হয়েছে, তা নিন্দনীয়। রাতের অাঁধারে মানুষ হত্যা করা কোন সংবিধানে আছে? তিনি বলেন, সরকার বলছে, অল্প কয়েকজন মারা গেছে। সেই অল্প কয়েকজনকে হত্যা করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
যুবদল নেতাদের উদ্দেশ করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আপনাদের সাবেক সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনারা কী করতে পেরেছিলেন? কেন এখন পর্যন্ত কোনো শক্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি?
এক মাস কোনো সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্তে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নাকি গণতন্ত্র ছাড়া কিছু বোঝেন না। তাহলে সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছেন না কেন? আসলে সরকার এখন ইনটেনসিভ কেয়ারে আছে। তাই সভা-সমাবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। কারণ, তারা অতিমাত্রায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি, বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন আহমেদ অসীম, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম প্রমুখ।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin