মতামত :
¦
¦
কী চান সংসদে এসে বলুন খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীকিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাযাযাদি রিপোর্ট আগামী নির্বাচন নিয়ে যে কোনো প্রস্তাব সংসদে এসে দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার গণভবনে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যেকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
নির্দলীয় সরকার পদ্ধতির দাবি মেনে নিয়ে সংলাপের আয়োজন করতে বিরোধী দলের প্রস্তাব দেয়ার দুদিন পর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ আহ্বান জানালেন। এ সময় শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, 'সংসদে আসেন, কী চান বলেন।'
নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বিরোধী দল সংসদ বর্জন করে আসছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের বক্তব্য, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না, তাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, 'আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনকে প্রভাবিত করেনি। কেউ কোনো কথা বলতে পারেনি।' এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারপর্যায়ে হয়ে যাওয়া সাড়ে পাঁচ হাজার নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, 'অনেক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। এবার তার কী বলার আছে?' অনির্বাচিত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় বসাতে আপত্তি জানিয়ে আসা আওয়ামী লীগের সভাপতি আগামী নির্বাচন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী করার প্রত্যয় জানান।
নির্বাচন কমিশনে কোনো হস্তক্ষেপ নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জনগণ যাকে ভোট দেবে, জনগণ যাকে চাইবে, তারাই ক্ষমতায় যাবে। সেই ব্যবস্থাই করব।' পঞ্চম জাতীয় সংসদের মাগুরা উপ-নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ওই ধরনের নির্বাচন আর হবে না। বিরোধীদলীয় নেতাকে 'আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক' কর্মকা- না চালানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জনগণের পেটে লাথি মারবেন না।' গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরে অবস্থানকালে দলীয় নেতাকর্মীদের তাদের পাশে দাঁড়াতে খালেদা জিয়ার নির্দেশের বিষয়টি তুলে তিনি বলেন, 'ডাক দিলেন। দলের লোকও তো এলো না; এখন আন্দোলনের কর্মসূচি দেন কোন মুখে।'
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল, নেতাকর্মীদের মুক্তি ও সভা সমাবেশে 'নিষেধাজ্ঞা' প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
নজরুলের স্বপ্নপূরণের আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্বপ্নপূরণে অসামপ্রদায়িক, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অসামপ্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং সবার সমঅধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শোষণ-বঞ্চনাহীন বাংলাদেশ গড়তে পারলে নজরুলের স্বপ্ন সত্যে পরিণত হবে।
তিনি আরো বলেন, একজন কবি- তিনি মানুষের অধিকার ও সাম্যের কথা বলায় ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন। অপরদিকে, ধর্মব্যবসায়ী ফতোয়াবাজদের মুখোশ খুলে দেয়ায় 'কাফের' বলেও অভিহিত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৪তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভাষণকালে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নজরুল রচিত গান যেগুলোতে তিনি জীবদ্দশায় সুর করতে পারেননি তাতে সুরারোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে নজরুল বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, এটি সম্ভব হলে এসব গান বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করবে। নজরুলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির চেতনায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান এক জাগরণী শক্তির উৎস। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা-নির্যাতন-নিপীড়ন-নিষ্পেষণে বাঙালি জাতি যুগে যুগে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় আর্তনাদ করেছে, প্রতিবাদ জানিয়েছে, আন্দোলন করেছে। বাঙালির সেই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পল্লবিত হয়েছিল আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনায়।
নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সৃষ্টি সম্ভারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা চাই কবির সম্পূর্ণ সৃষ্টি প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক। কবির দুই প্রধান সৃষ্টি সাহিত্য ও সঙ্গীতের মাধ্যমে আমরা নজরুলকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করতে চাই।'
তিনি বলেন, নবজাগরণের কবি, অসামপ্রদায়িক কবি তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, প্রতিবাদী ছিলেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃত নজরুল মানবতার প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী প্রতিভা জীবনের জয়গান গেয়েছেন। তার উদ্দীপনামূলক গান ও কবিতা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার বিশাল সৃষ্টি সম্ভারে আজ বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী বহুল প্রচলিত সব ভাষায় নজরুলের সাহিত্য কর্মের অনুবাদের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, এনডিসি, নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর রশীদ হায়দার এবং কবি পরিবারের সদস্য খিলখিল কাজী বক্তব্য রাখেন।
নজরুল ইন্সটিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর অ্যামিরেটাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নজরুল শিক্ষক ড. রফিকুল ইসলাম কবি নজরুলের ওপর স্মারক বক্তব্য পেশ করেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননারীরাই বাংলাদেশের সমাজকে বদলে দিয়েছে_ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin