মতামত :
¦
¦
পদ্মায় দুর্নীতি : আজ কানাডা যাচ্ছে দুদক টিমযাযাদি রিপোর্ট পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য আজ কানাডা যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই সদস্যের একটি টিম।
দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের টিম কানাডায় ২৩ মে পর্যন্ত থাকবে। সেখানে অবস্থানরত পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার আসামি কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহ এবং সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও রমেশের ডায়েরির
অনুলিপি সংগ্রহের চেষ্টা চালাবে।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, কমিশনের টিমকে কানাডা পাঠানোর ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রোববার টিম কানাডা যাবে।
দুই সদস্যের এই টিমে রয়েছেন দুদকের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মীর্জা জাহিদুল আলম।
তদন্ত টিমের অভিমত, একমাত্র কানাডা সরকারই পারে বর্তমানে মামলাটির একটি যৌক্তিক সমাধান দিতে। তারা সহায়তা করলে আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাবে দুদক।
এদিকে বাদী দুদকের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ মামলাটি আর দেখভাল করছেন না। প্রধান কার্যালয় থেকে তাকে জেলা কার্যালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন মীর্জা জাহিদুল আলম।
সূত্র আরো জানায়, ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। মামলার যৌক্তিক সমাধানের লক্ষ্যে দুদক টিমের কানাডা সফরের পরই কমিশনে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে গত ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে বাদ দিয়ে মোট সাত জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় (মামলা নং-১৯) মামলা দায়ের করে দুদক।
মামলায় আসামিরা হলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহ এবং সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল।
তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও সৈদয় আবুল হোসেন এবং আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলায় সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখা হয়েছে। দুইজন আসামিদের সঙ্গে কি কি ধরনের যোগাযোগ করেছেন তা মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার অন্যতম দুই আসামি মোশাররফ এবং ফেরদাউসকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের দুদকের রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এছাড়া এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহ এবং সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল কানাডায় পলাতক রয়েছেন।
বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ পেতে বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। তবে সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক গত বছর সেই ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়। প্রধান দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় এ প্রকল্প থেকে অন্যান্য সহযোগী দাতা সংস্থাও সরে যায়। এরপর নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের দায়ে ইতোমধ্যেই কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্বব্যাংক।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নঢাকায় আগামী এক মাস সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আপনি সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin