মঙ্গলবার, মে, ২১, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৭, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১০ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৮ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
রানা ও ৫ কারখানা পরিচালকের অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকাযাযাদি রিপোর্ট ![]() সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয় _যাযাদিরানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ধসে যাওয়া ভবনটিতে অবস্থিত ৫টি গার্মেন্টের পরিচালকদের ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৪ কোটি ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৩ টাকার সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক!১১টি ব্যাংকে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে (অ্যাকাউন্টস) সর্বশেষ স্থিতি হিসেবে এ অর্থ জমা রয়েছে। ৫টি প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের পাশাপাশি একক ও যৌথ হিসাব মিলিয়ে ১৮টি ব্যক্তি হিসাব রয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ৯ মে রানা প্লাজার ভবন মালিক রানাসহ এতে অবস্থিত ৫টি গার্মেন্টের ২১ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে দেশের সব তফসিলী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দায়ের করা রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে কোর্টের আদেশ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কারো ব্যাংক হিসাব থেকে পোশাক কারখানার বেতন ভাতা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশে অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। পাশাপাশি এ নির্দেশ সঠিকভাবে পরিপালন হয়েছে কিনা, তা পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়। সূত্রের তথ্য মতে, সোহেল রানার নামে দুটি ব্যাংক হিসাবের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর একটি এক্সিম ব্যাংকের সাভার শাখায় এবং অন্যটি ইস্টার্ন ব্যাংকে (ইবিএল) অবস্থিত। এক্সিম ব্যাংকের হিসাবে সোহেল রানার নামে ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৫ টাকা রয়েছে। আর ইবিএল'র হিসাবে রয়েছে ৫৫ হাজার ১৮ টাকা। সব মিলিয়ে তার জমা থাকা টাকার পরিমাণ ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৩ টাকা। অপরদিকে রানা প্লাজায় অবস্থিত গার্মেন্ট কারখানা নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেডের অগ্রণী ব্যাংক ও সাউথ ইস্ট ব্যাংকে দুটি হিসাব রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির আছে ৯ হাজার ৪৩৯ টাকা, অপরদিকে সাউথ ইস্ট ব্যাংকে রয়েছে ৭০ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩৫ টাকা। ব্যাংকে জমা প্রতিষ্ঠানটির মোট অর্থের পরিমাণ ৭০ হাজার ৬৮ হাজার ৩৭৪ টাকা। অপর একটি প্রতিষ্ঠান নিউ ওয়েভ সিস্টেমস লিমিটেডের অগ্রণী ব্যাংকের হিসাবে ১৮ লাখ ১২ হাজার ৪৩ টাকা এবং সাউথ ইস্ট ব্যাংকের হিসাবে ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৪ টাকার খোঁজ পাওয়া গেছে। এ দুটি হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে মোট ৪৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪২৮ টাকা। ইসলামী ব্যাংকে ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেডের একটি হিসাবে রয়েছে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯৪৯ টাকা রয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে অবস্থিত অপর একটি হিসাবে রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৫ টাকা। মোট স্থিতির পরিমাণ ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৯২৫ টাকা। ফ্যান্টম টেক লিমিটেডেরও এ দুটি ব্যাংকে হিসাবে যথাক্রমে ১০ হাজার ৬৯৯ টাকা ও ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭০৬ টাকা জমা রয়েছে। মোট টাকার পরিমাণ ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৪০৬ টাকা। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের একটি হিসাবে ইথার টেক্স লিমিটেডের জমা আছে ৪ হাজার ৬৮৩ টাকা। ব্যক্তিগত হিসাবগুলোর মধ্যে নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেডের পরিচালক বজলুল সামাদের চারটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকে ৮৮ হাজার ৫১৬ টাকা, সাউথ ইস্ট ব্যাংকে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৮ টাকা, ঢাকা ব্যাংকে ৯ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৩ টাকা ও ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭ টাকা রয়েছে। মোট স্থিতির পরিমাণ ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৪ টাকা। বজলুল সামাদের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক পরিচালকের ব্র্যাক ব্যাংকে থাকা যৌথ হিসাবে আরো রয়েছে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪৫ টাকা। অন্যদিকে মাহমুদুর রহমানের এককভাবে সাউথ ইস্ট ব্যাংক ও স্যান্ডার্ড চার্টার্ডে ব্যাংকে থাকা (এসসিবি) দুটি হিসাবে ১৬ হাজার ৩৬৩ টাকা ও ৯৫০ টাকা রয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে। অন্য পরিচালক দেলোয়ার আহমদের (এসসিবি) হিসাবে ১০ হাজার ১৮৫ টাকা স্থিতি রয়েছে। এছাড়া নিউ ওয়েভ স্টাইলস লিমিটেডের পরিচালক এ আর আইয়ুব হোসেনের সাউথ ইস্ট ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ৩০ হাজার ৬৭৬ টাকা। সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেড ও ফ্যান্টম টেক লিমিটেডের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে। সেখানে থাকা অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৭ টাকা। আরেক পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাহমুদের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাবে ২৭০ টাকা, ইথার টেক্সের পরিচালক মো. আনিসুর রহমানের ইবিএল এর হিসাবে ৮৬০ টাকা এবং জেসমিন আলম বিভার হিসাবে ১ হাজার ২ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অন্যান্য পরিচালকদের মধ্যে ইথারের পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, রফিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ জান্নাতুল ফেরদৌস, মোসাম্মত মরিয়ম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও মাহবুবুল আলমের হিসাব ও অর্থ সংক্রান্ত তথ্য এখনো পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে ফ্যান্টম টেকের পরিচালক ডেভিড মাইউর রিকো, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেডের আলেয়া বেগম, সুরাইয়া বেগম, এবিএম সিদ্দিকি, নাজিম উদ্দিনের কোনো হিসাবের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, 'আমরা আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক সোহেল রানাসহ ৫ পোশাক কারখানার পরিচালকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছি। তাদের হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ কী করা হবে তার সিদ্ধান্ত পরে নেয়া হবে।' এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |