মতামত :
¦
¦
আফগানিস্তানে নারী অধিকার আইন বাতিল হতে পারেযাযাদি ডেস্ক আফগানিস্তানে নারী অধিকারবিষয়ক একটি আইন পার্লামেন্টে তোলা হচ্ছে। এই আইনটি পার্লামেন্টে পাস করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এই আইনটি নিয়ে এরই মধ্যে নেতৃস্থানীয় আফগান নারীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আর তার নিষ্পত্তি করতেই শিগগির আইনটি পার্লামেন্ট তোলা হচ্ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, বিতর্কের ফলে প্রেসিডেন্টের জারি করা আইনটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে। তথ্যসূত্র : বিবিসি
২০০৯ সালে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, বাল্যবিবাহ এবং জোরপূর্বক বিয়ে নিষিদ্ধ করে একটি আইন করা হয়। তবে ওই আইনটি শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে পাস করা হয়। কিন্তু পার্লামেন্টর এমপিরা ওই আইনে অনুমোদন দেননি। এজন্য অনেকে পার্লামেন্টে ভোটের মধ্যদিয়েই এ ধরনের বিতর্কিত আইনের নিষ্পত্তির দাবি তোলেন। তাদের আশঙ্কা, পার্লামেন্টে পাস করা না হলে ভবিষ্যতে আইনটি বাতিলও হয়ে যেতে পারে। তবে নারী অধিকার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, এ নিয়ে বিতর্কের ফলে চলমান আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনেকটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
নারী অধিকারসম্পর্কিত আইন প্রণয়নের বিষয়টি আরেকবার আফগান পার্লামেন্টে তোলা হয়েছিল। তখনো এ নিয়ে ব্যাপক বাগযুদ্ধ হয়। ওই সময় রক্ষণশীল নেতারা নারী আইনের সংস্কার নিয়ে আলোচনাকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই কর্তৃক ২০০৯ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি করা বিদ্যমান আইনে শত শত লোককে জেল-জারিমানা করা হয়। এরপর নেতৃস্থানীয় নারী এমপি ফাওজিয়া কুফি, যিনি দুই বছর আগে এক তালেবান হামলার হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান, তিনি দাবি করেন_ পার্লামেন্টর অনুমোদনের মাধ্যমে আইনটিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। নয়তো তালেবান জঙ্গিদের শান্ত করার জন্য যে কোনো সময় আইনটি শিথিল করা হতে পারে। তিনি বলেন, কর্তা ব্যক্তিদের কেউই এ আইনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নন। সুতরাং আইনটিকে সংসদে পাস করালেই তা আরো শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।
তবে নারী অধিকার নিয়ে সক্রিয় কয়েকজন কর্মী মনে করেন, আইনটিকে পার্লামেন্ট উত্থাপন করা হলে তারা যা পেয়েছেন, তাও হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এতে করে রক্ষণশীল মৌলবাদীরা এটিকে সংশোধন করে নারীদের অধিকারের সুরক্ষাকে আরো দুর্বল করে দিতে পারে। এমনকি তারা আইনটিকে একেবারে বাতিল করে দেয়ার দুঃসাহসও দেখাতে পারে।
আফগানিস্তানে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের সদস্য সুরাইয়া সোবজাং বলেন, এই আইন নিয়ে খেলা করবেন না। কারণ, এটি একটি বড় অর্জন। মানবাধিকারের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আফগানিস্তানের সব লোকই এটির ভাগীদার।'
তবে আফগানিস্তানের গ্রামাঞ্চলে নারী অধিকার বিষয়ে যে স্বভাবজাত দৃষ্টিভঙ্গি গেঁথে আছে, তার পরিবর্তন ঘটাতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট কাটবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin