বৃহস্পতিবার, মে, ২৩, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৯, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১২ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪০ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাল্যবিবাহ
সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেইবাংলাদেশ একটি জনসংখ্যাবহুল দেশ। আয়তনের তুলনায় যখন কোনো দেশের জনসংখ্যার হার বেশি হয়, তখন স্বভাবত কারণেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ব্যতিক্রম নয়। তবু এটা একটি ইতিবাচক দিক, জনসংখ্যাবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অনেকাংশে এগিয়ে আছে। যার মধ্যে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষায় লিঙ্গভিত্তিক সমতা অর্জন, টিকা ও প্রতিষেধক গ্রহণ অন্যতম। কিন্তু এখনো বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের মধ্যে তৃতীয়। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন ও তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশের জনসংখ্যা একটি বড় সমস্যা; আর এর অন্যতম একটি কারণ হলো বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ যেমন জনসংখ্যাকে বৃদ্ধি করছে তেমনিভাবে বাল্যবিবাহের উচ্চহার শিশু ও মাতৃমৃত্যু বাড়াচ্ছে, সর্বোপরি লিঙ্গবিষয়ক সহিংসতার কারণে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৪ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩। প্রতি নারীর প্রজননের হার ২ দশমিক ২। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো দেশে এখনো প্রতি ৩ কিশোরীর মধ্যে দুজনের বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগেই। প্রতি ১০ কিশোরীর মধ্যে ৩ কিশোরীর বিয়ে হয় ১৫ বছরের মধ্যে। দেশের ৩ জনের একজন কিশোরী সন্তানের মা হয়ে যায়। শতকরা ৯০ শতাংশ অভিভাবক কিশোর বয়সেই কন্যা সন্তানের বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান। আর এই পরিপ্রেক্ষিতেই দেখা যাচ্ছে, বাল্যবিবাহ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাকাটিকে থমকে যেতে ব্যাহত করছে। বাংলাদেশে এই যে বাল্যবিবাহ হচ্ছে এবং তা প্রতিরোধে নানারকম উদ্যোগ ও প্রচারণাও লক্ষণীয় তবু বন্ধ হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা প্রধাণত চারটি কারণকে চিহ্নিত করেছে_ পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য-অশিক্ষা ও যৌতুকের চাপ। এটা ঠিক দেশের বেশিরভাগ পরিবারই আজো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। নিম্নবিত্ত পরিবারে কন্যাসন্তান জন্মানোর পর থেকেই বিয়ে দেয়ার চিন্তা শুরু করে দেয়। দেশে আইনত মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ১৮ বছর। আইনানুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের সঙ্গে ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়েকেই বাল্যবিয়ে হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বলা হয়েছে, বাল্যকাল বা নাবালক বয়সে ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিয়ে-বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখন এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যেমন জরুরি বিষয় তেমনিভাবে অভিভাবক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরো বেশি প্রচারণা ও নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কারণ বাল্যবিবাহের ফলে সর্বচ্চো মৃত্যু পর্যন্ত যেখানে ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যৌতুকের কারণে তালাক, পারিবারিক অশান্তি, অনিশ্চয়তা, নারীর নিরাপত্তা প্রবল হয়ে ওঠে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে কোনো অবস্থাতেই বাল্যবিবাহ কাম্য নয়। সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেয়া এবং একটি সুশিক্ষিত জাতি ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনের জন্য যে কোনো মূল্যেই বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে। সরকারের আরো বেশি কঠোর হয়ে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদি আরো বেশি আন্তরিক হয় এবং নারী শিক্ষাকে আরো সহজ করে প্রচারণার মাধ্যমে সার্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয় তবে বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হবেই। এর সঙ্গে আরো বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে। কেননা বাল্যবিবাহ রোধ হলে তা হবে উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি অন্যতম অর্জন। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
সম্পাদকীয় উপ-সম্পাদকীয় -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিএনপি সংসদে গিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |