শনিবার, মে, ২৫, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১৪ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৪২ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
টানা বর্ষণগাজীপুরে থই থই পানি যানজট-জলজটসিরাজগঞ্জে ঝরে পড়ছে পাকা ধানগাজীপুর প্রতিনিধি/টঙ্গী সংবাদদাতা ![]() গাজীপুরের টঙ্গী থানার সামনে থই থই পানি -যাযাদিবৃহস্পতিবার রাতের টানা বর্ষণে গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগড়া, বাসন সড়ক, মালেকের বাড়ি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং টঙ্গীর অধিকাংশ স্থানে হাঁটু পানি জমে গেছে। এতে এলাকায় যানজট ও জলজট সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। টঙ্গী পৌরসভার মূল ভবন, টঙ্গী মডেল থানা, টঙ্গী পৌর অডিটোরিয়াম, সফিউদ্দিন সরকার অ্যাকাডেমি অ্যান্ড কলেজ, টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস্ কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বই-পুস্তক ভিজে বিনষ্ট হয়েছে। টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে পুকুর ও মৎস্য খামারের লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এ ছাড়া দোকানপাটসহ বিভিন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে টঙ্গী সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জেলেদের জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে। শেষ রাতে নিচতলার বাসিন্দারা উপরের তলায় অথবা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন। কাঁচা, আধাপাকা এবং পাকা বাড়ির বাসিন্দারা ইট দিয়ে খাট উঁচু করে গৃহস্থালীর জিনিজপত্র রক্ষার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে বস্তি এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। আউচপাড়া কলেজ রোড, সফিউদ্দিন সরকার অ্যাকাডেমি রোড, মোক্তারবাড়ি রোড, সুলতানা রাজিয়া রোড, সুর তরঙ্গ রোড, হাজি ইউসুফ আলী রোড, স্কুইব রোড, সাতাইশ রোড, দত্তপাড়ার প্রায় প্রতিটি শাখা রোড, সিইআরএস রোড, মেঘনা রোড। এ ছাড়া গাজীপুরা, এরশাদনগর, দেওড়া, মুদাফা, মরকুন, গোপালপুর, পাগাড়, ফকির মার্কেট, মিরাশপাড়া, পূর্ব এবং পশ্চিম আরিচপুরের অধিকাংশ রাস্তা হাঁটু পানির নিচে ছিল। শুক্রবার সারাদিন টঙ্গীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি ছিল। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, থানা এবং বিলুপ্ত পৌরসভা কার্যালয়ও হাঁটু পানির নিচে ছিল। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের নিচতলা প্লাবিত হওয়ায় সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছিল। দিনব্যাপী থানার প্রধান ফটকে কোমড় পানি ছিল। থানায় পুলিশের গাড়িসহ যান চলাচলও প্রায় বন্ধ ছিল।এদিকে সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি/তাড়াশ সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জে টানা বর্ষণে ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বোরো ধান কাটার মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত কৃষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ইতোমধ্যেই বৃষ্টির কারণে অনেক জমির পাকা ধান ঝরে পড়ছে। অন্যদিকে কেটে স্তূপ করে রাখা ধান থেকে নতুন গাছ গজানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোদের অভাবে মাড়াই করা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জেলার চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার পরিমাণ গড়ে ৭০ শতাংশ। আগাম বন্যার কথা বিবেচনা করে এ অঞ্চলের কৃষকরা আগাম জাতের ধানের চাষ করায় প্রায় ২ সপ্তাহ আগে থেকেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে সবেমাত্র ধান পাকতে শুরু করেছে। উপজেলাগুলোতে কৃষকদের ধান কাটার পরিমাণ গড়ে ২০ শতাংশ। কৃষি দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার মাত্র ৪০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। এ বছর বোরো ধান ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি হলেও ভারী বর্ষণ উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কৃষকরা জানান, এমনিতেই ধানের দাম কম। তার উপরে ভারী বর্ষণ কয়েকদিন চলতে থাকলে তাদের লোকসান গুনতে হবে। ২ দিন ধরে চলতে থাকা দমকা বাতাস ও বৃষ্টিতে জমির পাকা ধান ঝরে পড়ছে। কিছু ধান কাটা হলেও রোদের অভাবে তা প্রক্রিয়াজাত করে সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। কাটা ধান মাড়াই করতে না পারায় ধান থেকে নতুন গাছ গজাতে শুরু করেছে। কামারখন্দ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক অজিত জানান, সার, কীটনাশক এবং চড়া দামের মজুরের কারণে ধানের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কৃষক ফলন ভলো হওয়ায় কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ মাসের এমন সময়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকদের আশা ধুয়ে যাচ্ছে। বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর গ্রামের কৃষক রুবেল জানান, দু'একদিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টি না কমলে ফসলের অর্ধেকও ঘরে তোলা যাবে না। এমনিতেই বাজারে ধানের দাম কম। তার ওপর ধান সংগ্রহ কমে যাওয়ায় কৃষকদের বেশি লোকসান গুনতে হবে। তাড়াশ উপজেলায় ৮ ইউনিয়নে ২৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মধ্য বৈশাখে ৫০ ভাগ ধান কাটা-মাড়াই সম্পন্ন হলেও ক্ষেতের বাকি ধান নিয়ে চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। অধিকাংশ ধানই কেটে মাড়াই করা হলেও রোদের অভাবে শুকানো যাচ্ছে না। কাটা ধান অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে। পাকা ধানে শীষ ক্ষেতের পানিতে নেতিয়ে পড়ছে। বৃষ্টির কারণে কৃষক ধান কাটতে পারছে না। ঘরে-মাঠে ধানের এমন অবস্থায় কৃষক দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তাড়াশ উপজেলার পেঙ্গুয়ারী, সগুনা, কোহিত, বাশবাড়িয়া, লালুয়ামাঝিড়া, খড়খড়িয়া, ধাপতেঁতুলিয়া, সান্দুরিয়া, সাচানদিঘী, প্রতিরামপুর, বারুহাস, দিঘরিয়া, কুন্দইল, মাকোরশোন, কুশাবাড়ি. দিঘীসগুনা, মাগুড়াবিনোদসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ পরিদর্শন করে একই চিত্র দেখা গেছে। সগুনা গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, তার বাড়ির উঠানে সাড়ে ৩০০ মণ ধান স্তূপ দিয়ে রাখা হয়েছে। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আয়োজনে বিএনপির অনুরোধে সরকার সাড়া দেবে
বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |