মতামত :
¦
¦
কোচিং বাণিজ্যে জড়িত ২০৮১ শিক্ষককে শোকজযাযাদি রিপোর্ট কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার দায়ে সারাদেশে দুই হাজার ৮১ জন শিক্ষকে শোকজ করা হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন স্তরের ৬৮৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এরা কমর্রত। সমপ্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোচিংবাজ শিক্ষকদেরকে শোকজ করে। উল্লেখ্য, কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার দায়ে এই প্রথম একসঙ্গে এতবেশি শিক্ষককে শোকজ করা হল। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা কোচিং
করাতে পারবেন না।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে শোকজকৃতদের মধ্যে প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও রয়েছেন। শিক্ষকরা শোকজের জবাব দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে কোচিংবাজ এই শিক্ষকদের তালিকা করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তালিকাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানোর চার মাস পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের শোকজ করা হয়।
শোকজ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একজন, ২৭৮টি সরকারি-বেসরকারি কলেজের ৭২৯ জন, ১০৬টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০৮ জন, ২৭১টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৮৯ জন, ১১টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ২১ জন, ১৩টি মাদ্রাসার ২৫ জন এবং ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্বিবিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তিনিই একমাত্র শিক্ষক, যাকে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার দায়ে শোকজ করা হয়েছে। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কমর্রত। তিনি প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করান বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি, বেসরকারি ও মাদ্রাসার কোচিংবাজ শিক্ষকদেরকে শোকজ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশি থেকে শিক্ষকদেরকে শোকজে বলা হয়েছে, 'আপনি নীতিমালা অমান্য করে কোচিং করাচ্ছেন। এজন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।' প্রত্যেক শিক্ষকের নামে এই শোকজের চিঠি পাঠিয়ে এসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির কাছেও পাঠানো হয়েছে। আর সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত শিক্ষকের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষকদের শোকজ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ স্তরে ৯ জন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত। অভিযুক্ত শিক্ষক প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করান বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাউশি'র পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সজল কান্তি মন্ডল বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার কোচিংবাজ শিক্ষকদেরকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব আসার পর বিশেক্ষষণ করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তবে কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারের এ পদক্ষেপে খুশি হয়নি অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, কোচিংবাজ শিক্ষকদের শোকজ করা লোকদেখানো। শোকজ করে শিক্ষক সংগঠনদের উষ্কে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোচিং বন্ধ করার মতো সৎসাহস সরকারের নেই।
উল্লেখ্য, কোচিংবিরোধী নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোন শিক্ষক নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। প্রয়োজনে অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। শিক্ষকরা এ নীতিমালা না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক হলে এমপিও বন্ধ এবং সরকারি শিক্ষক হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলা হয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin