মতামত :
¦
¦
দারিদ্র্যকে জয় করেছে সোনিয়ারাজু কুমার দে অভাবের সংসারে মা-বাবা দুজনেই গান করতেন। পাশে দাঁড়িয়ে ছোট সোনিয়া গান শুনতেন। লালন গানে মুগ্ধ সোনিয়া মাকে বলেন সে গান শিখবে। মেয়ের এমন আবদার প্রথমে পূরণ করতে চাননি মা। কারণ অভাবের সংসারে মেয়ের এমন আবদার পূরণ করা দুরূহ ব্যাপার। কিন্তু সোনিয়ার জাদুকরি কণ্ঠ মা রীতা আক্তারকে মুগ্ধ করে। তাই বাবা দুলাল মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দেন দৌলতপুর শিল্পকলা একাডেমিতে। পরে ভর্তি হন কুষ্ঠিয়ার অবিরাম লালন একাডেমিতে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সোনিয়া লালন গান রপ্ত করে বিভিন্ন স্টেইজ শোতে গান গেয়ে সুনাম অর্জন করতে থাকেন। প্রথম ওস্তাদ ফরিদুল ইসলাম সোনিয়ার গানে মুগ্ধ হয়ে তাকে পাঠিয়ে দেন জিটিভির ভয়েজ অব দ্যা নেশন প্রতিযোগিতায়। সোনিয়া সেখানে কয়েকশ শিল্পীর মধ্যে ১২তম পদে আসিন হন। এরপর সোনিয়াকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে দূরলিপি কোম্পানি থেকে সোনিয়ার দুটি মিক্সড অ্যালবাম বের হয়। সে সময়ে অ্যালবাম দুটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।
জানা গেছে, সোনিয়ার পুরো নাম তাবসুম নাহার সোনিয়া। ১৯৯৯ সালের ১০ এপ্রিল কুষ্ঠিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার দিঘলকান্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সোনিয়া। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোনিয়া বড়। সোনিয়া বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বর্তমানে মেয়ের আয়ে সংসার চলছে দুলালের।
তার বাবা দুলাল একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী। বাবা-মায়ের হাতে গানের হাতেখড়ি সোনিয়ার। সোনিয়ার কণ্ঠে সব ধরনের গান মানায়। তবে বাউল সম্রাট সাইজির গানগুলো সোনিয়া গাইতে বেশি পছন্দ করেন। সোনিয়া চ্যানেল আই, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে গান গেয়ে সুনাম অর্জন করেছেন। এছাড়া সোনিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ আয়োজনে গানের প্রতিযোগিতা এপার বাংলা ওপার বাংলায় অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া সে এ পর্যন্ত প্রায় সহস্রাধিক স্টেইজ শোতে গান পরিবেশন করেছেন।
এ ব্যাপারে সোনিয়া বলেন, আমার জন্ম লালনের দেশে। তাই লালন গান আমার প্রথম পছন্দ। তবে সব ধরনের গান গাইতে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমার স্বপ্ন একজন ভালো শিল্পী হিসেবে দেশের মানুষের মনে ঠাঁই করে নেয়া।
সোনিয়া বর্তমানে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের দিদার লালন একাডেমির শিক্ষার্থী। তার বর্তমানে গুরু নকুল কুমার বিশ্বাস ওরফে শামীম রেজা গুরুর কাছে গান শিখছেন। দেশের কোথাও সোনিয়া গান গাইতে এলে হাজার হাজার দর্শক তার গান শোনার জন্য ছুটে আসে। সোনিয়ার বর্তমান গুরু নকুল কুমার বিশ্বাস ওরফে শামীম রেজা গুরু সোনিয়া সম্পর্কে বলেন, আমি এ পর্যন্ত প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে গানের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তবে সোনিয়া আমার দেখা সেরা ও মেধাবী ছাত্রী। কারণ তার কণ্ঠে সব ধরনের গান মানায়।
এ ব্যাপারে দিদার লালন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা নাছির উদ্দিন দিদার বলেন, সোনিয়া খুবই মেধাবী সে খুব সহজে যে কোনো গান রপ্ত করতে পারে। আমি তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসংলাপে তৃতীয় পক্ষে মধ্যস্থতার দরকার নেই_ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin