পূর্ববর্তী সংবাদ
মতামত :
¦
¦
সংঘাত নয়; জনগণ চায় সমঝোতাএমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আমাদের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? আমরা কোন দিকে যাচ্ছি? দেশবাসী এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে উদ্বেগ তত বাড়ছে। রাজনৈতিকভাবেই সঙ্কট বাড়ানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য এ অবস্থা থেকে উত্তরণ অপরিহার্য। এই ধরনের সংঘাতের জন্য গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা যদি ব্যাহত হয় তাহলে সঙ্কট দীর্ঘায়িত হবে।মীর আব্দুল আলীম দেশবাসীর শান্তির রসদ এখন দুই নেত্রীর হাতে। তারাই দেশকে সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে পারেন। এজন্য তাদের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। জনগণও তাদের মুখপানে চেয়ে আছেন। জনগণ চায় সমঝোতা। সংঘাত চায় না কেউ। অল্প সময়ের সংঘাতেই দেশের বড়ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে। অর্থনীতিতে টান পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে। শিল্প-কারখানা গার্মেন্ট সবক্ষেত্রে মন্দাভাব বিরাজ করছে। এখনই ছোটখাট ব্যবসায়ীরা পথে বসে গেছেন। এ অবস্থ আরো ৪-৫ মাস চলতে থাকলে বড় এবং মাঝারি গোছের ব্যবসায়ীরাও পথে বসবেন। সমঝোতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সামনে সংঘাত আরো বাড়বে। এটাও সত্য বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতির ইতিহাস অনেক পুরনো। অতীতেও ছিল, এখনো আছে। গত দুই দশক ধরে এই সংঘাতের চিত্র বেশ প্রত্যক্ষ করা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন শুধু গণতন্ত্র নয়, অতিসমপ্রতি ধর্ম, সামপ্রদায়িকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ কারণেই বর্তমান রাজনীতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতি আমাদের সবার জন্যই খুব উদ্বেগজনক। দেশবাসী, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা এখন বিপদে নিপতিত। কি রাজনৈতিক, কি অর্থনৈতিতে- এমন এক পরিস্থিতি অতিক্রম করছেন যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিচ্ছে। নূতন বিনিয়োগ নাই বললে চলে। বিদ্যমান পরিস্থিতি নূতন বিনিয়োগের অনুকূলে নেই। দেশবাসীও জানমাল ও নিরাপত্তা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে অপহরণ, গুম এবং খুন হওয়ার আতঙ্কে ভুগছে জনগণ। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত পুলিশের হিসাব অনুযায়ী জানা যায়, চলতি ২০১৩ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে খুন হয়েছে ৬২৭ জন। অপহরণ ও নিখোঁজ হয়েছে ১৬৭ জন। আর ডাকাতি হয়েছে ১১৮টি। বলা বাহুল্য, অপরাধের এ হার আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে সরকারও উদ্বিগ্ন। এ কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে, মানুষের জানমাল ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। ঘরে-বাইরে কোথাও এখন আর মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। কে কখন কোথায় দুষ্কৃতিচক্রের কবলে পড়ে মালপত্র, এমনকি জীবন হারাবে, সেটা আন্দাজ করারও উপায় নেই। জনগণ নিরাপত্তাহীনতার শিকার। এ আশঙ্কাও প্রবল যে, আগামীতে তাদের অনিরাপত্তা আরো বাড়তে পারে। এজন্য রাজনৈতিক অস্থিরতাই যে দায়ী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের লাগাতার তা-ব ও বিএনপির একের পর এক কর্মসূচিতে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নিরাপত্তার শঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটছে সহিংস ঘটনা। একের পর এক গুম আর প্রাণহানি হচ্ছে। প্রাণহানি ঘটছে কোনো বাছ-বিচার করে নয়। নিরীহ সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী-সমর্থক এমনকি পুলিশও খুন হচ্ছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিকভাবে সমাধানের কথা অনেকেই বার বার বলে আসছেন। সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো তাগিদ নেই। সংলাপের প্রয়োজনের কথা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো বলছে কিন্তু 'বিচার মানি কিন্তু তাল গাছটা আমার'। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপের ব্যাপারে এমন আচরণই করছে। কোনো দলই সংলাপে বসতে আপত্তি দেখাচ্ছে না, তবে সংলাপের জন্য শর্তজুড়ে দিচ্ছে। ফলে যত দিন গড়াচ্ছে সংলাপের পথ ততই কঠিন হচ্ছে। বিএনপি বলছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। এ ব্যাপারে তারা অনড়। সরকারি দলের কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার আর কোনোই সুযোগ নেই। গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে এবং তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। আর এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে তাদের মধ্যে সহনশীলতা অবশ্যই কাম্য। দেশের কথা, জনগণের কথাও ভাবতে হবে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে। ধৈর্য মহৎ গুণ। কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও শুধু নিজেদের অবস্থানে অনড় না থেকে জনগণের কথা ভেবে পরস্পর আলোচনায় বসতে হবে। এই সংলাপ কোথায় হবে, কারা আগে এগিয়ে আসবে- এসব কারণ দেখিয়ে অযথা কালক্ষেপণ মোটেও সমীচীন নয়। উচিত নয় সংলাপের আগেই শর্তজুড়ে দেয়া। জোটের শরিক দলগুলোও তাদের রাজনৈতিক মর্যাদার অধিকারী। তারা হয়তো আসনসংখ্যা বা সমর্থনের দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে, কিন্তু তাদের জনসমর্থনকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। তাই তাদের সঙ্গে নিয়েই একসঙ্গে সবাই সংলাপে বসুক- এটাই এখন সবাই দেখতে চায়। সুশীল সমাজ এবং কূটনীতিকরা নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরও কিছুটা দায়িত্ব রয়েছে। ধৈর্য, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ইত্যাদি বর্তমান রাজনীতিতে বেশি করে চর্চা করার জন্য আমাদের জোর দাবি তুলতে হবে এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে দেশ আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যা জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য কখনোই কাম্য নয়। এ পরিস্থিতি আবার অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানকে সুযোগ করে দিতে পারে, যা আমরা চাই না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কি আমাদের বিরোধী দল এবং সরকার রাজনৈতিক সমঝোতায় আসবে? আমাদের দলগুলো শুনবে কি শুনবে না, সেটা তাদের এখতিয়ার। কিন্তু দেশবাসীর স্বার্থে উভয়ের এখনই সংলাপে বসা দরকার। সংলাপের মাধ্যমে উভয়পক্ষকে ছাড় দিয়ে সমস্যা সমাধান করে নেয়া বড্ড বেশি দরকার হয়ে পড়েছে। তা না হলে সবাইকে পেরেশানির মধ্যে পড়তে হবে। যেভাবে সংঘাত চলছে এবং চলবে- তাতে আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশবাহিনীর সদস্যরা বিরোধী দলের কর্মসূচি ঠেকাতে বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচি প্রতিরোধে ব্যস্ত থাকতে থাকতে রীতিমতো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। দিনরাতের বেশিরভাগ সময় তাদের রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে, তৎপর থাকতে হচ্ছে গ্রেপ্তার অভিযানেও। দায়িত্ব পালনে এই চাপ ও ক্লান্তির কারণে তাদের পক্ষে যথাযথভাবে আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা সুরক্ষার অপরিহার্য দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়ে উঠছে না। আর এ সুযোগটি ছিনতাইকারী, ডাকাত, রাহাজানিসহ দুষ্কৃতিচক্রগুলো গ্রহণ করছে। পুলিশের টহল-তল্লাশি স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকলে এসব চক্রের পক্ষে এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠা সম্ভব হতো না। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনকে দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সে ক্ষেত্রে আগামীতে পুলিশবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজপথ ও মাঠের দায়িত্ব পালনে আরো সময় ও শ্রম দিতে হতে পারে, আরো ব্যস্ত হয়ে উঠতে হতে পারে। এ অবস্থায় তাদের মধ্যে ক্লান্তি ও অবসাদ আরো বাড়তে পারে। মূল দায়িত্ব পালনে বাড়তে পারে আরো অপারগতা। তেমন অবস্থা দেখা দিলে দেশ যে অপরাধী ও দুষ্কৃতিচক্রগুলোর অভয় বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমেয়। শান্তিশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনায় নিলে সরকারকে অবশ্যই নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষার কাজে পুলিশবাহিনীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে নিয়োজিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধী ও দুষ্কৃতিচক্রগুলোর দৌরাত্ম্য যখন আরো বেড়ে যাবে, তখন তাদের সামাল দেয়া দুরূহ হয়ে পড়বে। মনে হচ্ছে, সে সময় এসে গেছে।
এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আমাদের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? আমরা কোন দিকে যাচ্ছি? দেশবাসী এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে উদ্বেগ তত বাড়ছে। রাজনৈতিকভাবেই সঙ্কট বাড়ানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য এ অবস্থা থেকে উত্তরণ অপরিহার্য। এই ধরনের সংঘাতের জন্য গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা যদি ব্যাহত হয়, তাহলে সঙ্কট দীর্ঘায়িত হবে।
উত্তরণের কথা আমরা বার বার বলেছি; হাজার বার বলেছি। সমঝোতা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সমঝোতা কীভাবে সম্ভব? দুই দল ইচ্ছা করলে যে কোনো সময়, যে কোনোভাবে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তারা যদি ইচ্ছা না করে তাহলে আমরা যতই বলি সমস্যা সমাধান হবে না। সব কিছুই দুই দলের ওপর নির্ভর করছে। দেশজুড়ে যে আতঙ্ক তা দূর করার দায়িত্ব রাজনীতিকদের এবং সরকারের। দেশে শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিকদের ও সরকারকে এ মুহূর্তে আন্তরিক হতে হবে। সবার সমবেত চেষ্টায় দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আমরা মনে করি। জনগণ সেই শান্তি ও স্বস্তির দিনের অপেক্ষায় আছে। জানমালের নিরাপত্তা পাওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার। তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকার সেটা দিতে না পারলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা। সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে আমাদের। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালালে অবশ্যই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষিত হবে। সরকার যদি বলেন, আমাদের বিরোধী দল বিএনপি আর জামায়াত-শিবিরের কারণে জানমাল নষ্ট হচ্ছে, তা মেনে নেবে না জনগণ। কার কারণে হচ্ছে- জনগণের কাছে সেটা বড় নয়। তাদের জানমাল অনিরাপদ, তা রক্ষায় ব্যর্থ হলে সরকারকেই দোষবে তারা। ধরে নিচ্ছি এজন্য বিএনপি জামায়াত-শিবিরই শতভাগ দায়ী। তাই বলে সরকার আরো কঠোর হয়ে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। কিছুতেই জনগণের জানমাল নষ্ট করা যাবে না। এ জন্য অবশ্যই সরকারকে কৌশলী হতে হবে। জানমাল রক্ষা করে তবেই সরকারকে সব পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের দায়িত্ব রয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সে দায়িত্ব যথাযথ পালন করতে হবে। বিরোধী দলকে কেবল মসনদে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় একের পর এক ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিলেই চলবে না। তাদেরও দেশের কথা ভাবতে হবে; দেশের সার্বিক অর্থনীতির কথা ভাবতে হবে। জনগণের জানমাল নষ্ট করে জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় যাওয়া যাবে, তা ভাবা কিন্তু গুঁড়েবালি। তাই সরকার এবং বিরোধী দল উভয়কে বলব, ক্ষমতা কুক্ষিগত করা আর ক্ষমতায় যাওয়ার মোহ ত্যাগ করুন; দেশকে ভালোবাসুন; সংলাপে বসুন। জনগণের স্বার্থে দেশের স্বার্থে সংঘাত নয়, সমাধানের পথ খুঁজে বের করুন। আর তা করতে ব্যর্থ হলে জনগণের কাছে আপনাদের একদিন এর জবাব দিতেই হবে।

মীর আব্দুল আলীম: সাংবাদিক, কলামিস্ট, নিউজ-বাংলাদেশ ডটকমের সম্পাদক
হবংিংঃড়ৎব০৯@মসধরষ.পড়স
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য_ মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামালের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin