পরবর্তী সংবাদ
বাংলা সফটওয়্যার নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদরাসময়ের সাথে সাথে এগিয়েছে কম্পিউটারের বহুমাত্রিক ব্যবহার।এই ব্যবহারটা যদি হয় মাতৃভাষায় তাহলে সেটা অবশ্যই অসাধারণ। পৃথিাবীর প্রযুক্তিপ্রেমীরা আগ্রহী থাকেন নিজের ভাষায় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে। আর ইন্টারনেটে নিজের ভাষা লেখা বা নিজের ভাষায় কোনো কিছু প্রকাশের সুবিধা তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন অনেকেই। তারা তৈরি করেন ছোট ছোট কিছু প্রোগ্রাম, যা টুলস নামে পরিচিত। ইন্টারনেটে এখন বাংলা লেখার জন্য রয়েছে দারুণ কিছু প্রোগ্রাম।
কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য আগে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হতো। সমস্যা ছিল এক কম্পিউটারে বাংলা লিখে অন্য কোনো কম্পিউটারে নিয়ে গেলে তা দেখা যেত না; যদি না কম্পিউটারে ওই নির্দিষ্ট সফটওয়্যারটি ইনস্টল করা থাকত। আন্তর্জাতিক সংকেতায়ন ব্যবস্থা ইউনিকোড ৩.০-এ বাংলা ভাষা যুক্ত করার পর ইউনিকোড সমর্থন করে এমন সব অপারেটিং সিস্টেম এবং সব সফটওয়্যারেই এখন বাংলা দেখা ও লেখা সহজ। এ সুবিধাটি কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক ইউনিকোডভিত্তিক প্রোগ্রাম, যা দিয়ে ইন্টারেনেটে সহজেই বাংলা লেখা ও পড়া যায়।
বাংলা লেখার যে টুলসগুলো রয়েছে তার সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত হতে শুরু করেছি।
ইন্টারনেটে বাংলা লেখার সফটওয়্যার অভ্র। ওমিক্রন ল্যাবের তৈরি এ মুক্ত সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বাংলা লেখা যায় নানা কি-বোর্ড লে-আউট ব্যবহার করে। ইউনিকোড সমর্থিত অভ্র কি-বোর্ডে রয়েছে অভ্র ফোনেটিক, অভ্র ইজি, বর্ণনা, ন্যাশনাল (জাতীয়) ও মুনির, প্রভাত কি-বোর্ড লে-আউট। এর মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবহার করে বাংলা লেখা যায়। রয়েছে এর বহনযোগ্য সংস্করণ (পোর্টেবল অ্যাডিশন)। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের পছন্দের লে-আউটও বানানোর সুবিধা আছে অভ্রতে। কি-বোর্ডে ঋ১২ বা নির্দিষ্ট নির্বাচিত কি-বোর্ড লে-আউট চেপে কি-বোর্ড বাংলা বা ইংরেজি করে নেয়া যায়। অভ্রতে আছে নতুন বানান পরীক্ষক। আরো উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে এখন রূপান্তরের সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে।
প্রচলিত বাংলা থেকে ইউনিকোড বাংলায় রূপান্তর করার প্রোগ্রামের (কনভার্টার) জনপ্রিয়তাও ইন্টারনেটে বেশ। প্রচলিত বাংলা লেখাকে ইউনিকোডে রূপান্তরের সুবিধা দিচ্ছে নহবিনঃড়ড়ষং.ংভ.হবঃ ওয়েবসাইট। এস এম মাহবুব মুর্শেদ এবং অরূপ কামালের তৈরি এ টুলসটিতে প্রভাত, অভ্র, বর্ণসফট লে-আউটে ইউনিকোডে লেখা যাবে। এছাড়া প্রচলিত বাংলায় বৈশাখী, বংশী, বর্ণসফট, ফোনেটিক লে-আউটে লিখেও ইউনিকোডে রূপান্তর করা যাবে। অর্থাৎ ইউনিকোড বক্সে লিখে সাধারণ প্রচলিত বাংলায় যেমন রূপান্তর করা যাবে, তেমনি সাধারণ প্রচলিত বাংলায় লিখে ইউনিকোডেও রূপান্তর করা যাবে। এছাড়া ইচ্ছা করলে এ কনভার্টার বক্সে লিখে সেটিকে ইন্টারনেটে ব্যবহার করা যাবে। এ ব্যাপারে এস এম মাহবুব মুর্শেদ জানান, ব্যক্তিগত প্রকল্প হিসেবে বাংলা সংখ্যা থেকে ভয়েসে রূপান্তর করার প্রোগ্রাম এবং একটা উইন্ডোজের জন্য প্রচলিত বাংলা থেকে ইউনিকোড বাংলা কনভার্টার বানানো হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাজে লাগবে এ ভাবনা থেকেই এটি তৈরি।
বাংলা লেখার ক্ষেত্রটা এখন অনেক বেশি। বস্নগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বাংলা লেখার ক্ষেত্রটি সহজ হয়েছে বিভিন্ন টুলসের মাধ্যমে। এসব টুলসের পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের ইউনিকোড ফন্টও। ২০০৫ সাল থেকে বিজয় ইউনিকোড ফন্ট চালু আছে। বস্নগ বা সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে বাংলা লেখা সহজ করে দিচ্ছে বাংলা ডট ওআরজি ডট বিডি (িি.িনধহমষধ.ড়ৎম.নফ)। এ সাইটে অভ্র, প্রভাত, ইউনিজয়সহ পাঁচ ধরনের কি-বোর্ড লে-আউটে সরাসরি বাংলা লেখা যায়। লেখাটি কপি করে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পেস্ট করে দিলেই হয়। অনলাইনে সব সুবিধা আছে বলে কম্পিউটারে আলাদা করে সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। রয়েছে বানান পরীক্ষার ব্যবস্থা। অনেকেই মোবাইল ফোন থেকে বাংলা লিখতে পারেন না বিল্ট-ইন সুবিধার অভাবে। আর এমন সব সুবিধা নিয়ে রয়েছে সাদা খাতা ফোনেটিক বাংলা কনভার্টার (িি.িংধফধশযধঃধ.নরহযড়ংঃবৎ.পড়স)। এর মাধ্যমে যেকোনো যন্ত্র থেকে বাংলা লেখা যাবে সফটওয়্যার না নামিয়েই। এ সাইটে রয়েছে ফোনেটিক কিম্যাপ লিংক, যার মাধ্যমে রোমান হরফে বাংলা লিখে মায়াবী বাংলায় রূপান্তর' বাটনে চাপলেই নিচের টেক্সটবক্সে ইউনিকোড বাংলায় রূপান্তর হয়ে যাবে। এ ছাড়া একুশে (িি.িবশঁংযবু.ড়ৎম) সাইটে রয়েছে বিভিন্ন ফন্ট এবং লে-আউট। বিশ্বসেরা সার্চ ইঞ্জিন গুগলেও রয়েছে বাংলা কি-বোর্ড লে-আউট। িি.িমড়ড়মষব.পড়স.নফ ঠিকানায় সার্চ বক্সের ডানপাশে থাকা কি-বোর্ডটি মাউসের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে এবং লেখা যাবে বাংলায়।
মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টুর বাংলা সংস্করণ রয়েছে, তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো বাংলায় ব্যবহারের জন্য স্থানীয়করণ করার কাজও হচ্ছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলাতেই আমরা কম্পিউটারের সব কাজ করতে পারব। এ প্রত্যাশা সবার মায়াবী কি-বোর্ড অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম-চালি স্মার্টফোনে বাংলা লেখার একটি সফটওয়্যার। অ্যান্ড্রয়েড ২.১ এবং এর পরবর্তী সব সংস্করণে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে অ্যান্ড্রয়েড সেটটিতে যদি বাংলা সমর্থন না করে, তবে এটি দিয়ে বাংলা লেখা দেখা যাবে না। তাই ইনস্টল করার আগে নিশ্চিত হয়ে নেয়া যেতে পারে। বাংলা সমর্থন করে কিনা, সেটা পরীক্ষা করার সহজ পদ্ধতি হলো অ্যান্ড্রয়েড ওয়েব ব্রাউজার থেকে যঃঃঢ়://নহ.রিশরঢ়বফরধ.ড়ৎম ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলা উইকিপিডিয়া খোলা। যদি পাতাটিতে বাংলা লেখাপড়া যায়, তবে সেটটি বাংলা সমর্থন করে। না হলে সেটে এ কি-বোর্ডটি ব্যবহার করা যাবে না। এ কি-বোর্ড দিয়ে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখা যায়। ডিফল্ট হিসেবে সব সময় ইংরেজি নির্ধারণ করা থাকে, বাংলা লেখার আগে কি-বোর্ড থেকে তাই বাংলা অপশনটি চালু করে নিতে হবে। এ অ্যাপলিকেশনটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, ফোনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা লেখা যায়, ইংরেজি কি-বোর্ড রয়েছে, অতিরিক্ত হিসেবে বেশকিছু স্মাইলি এবং চিহ্ন ব্যবহার করার ব্যবস্থা রয়েছে। সম্প্রতি ফ্রি সংস্করণের পাশাপাশি মায়াবী কি-বোর্ডের একটি প্রিমিয়াম সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।
য় তানভির আহমেদ
 
পরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নখালেদা জিয়ার পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে_ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin