মহিলাদের গর্ভকালীন যত্নএকজন নারীর কাছে মা হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শত কষ্টের মাঝেও একজন নারী তার গর্ভকালীন সময়ে এক ধরনের সুখের অনুভূতি নিয়ে সময় পার করে। গর্ভকালীন সময়ে কিছু নিয়ম মেনে চললে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হয়। গর্ভকালীন মহিলাদের বিষয়ে লিখেছেন ডা. শামসাদ জাহান শেলীপ্রথম তিন মাস
* মাসিক বন্ধ হলে ডাক্তারের পরামর্শে প্রস্রাব এবং রক্ত পরীৰা করে আপনি সনত্দানসম্ভবা কিনা তা নিশ্চিত করম্নন।
* মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বিশ্রাম নেবেন।
* খাবার অরম্নচি হলেও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
* ফলিক এসিড সেবনে বাচ্চার মস্কিষ্ক সুগঠিত হয়।
তিন থেকে সাত মাস
* প্রথম তিন মাস উপসর্গ কমে আসে
* তিন থেকে পাঁচ মাসের ভেতরে বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করতে পারবেন। এ সময় একবার ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
* পাঁচ মাসের পর পেট দ্রম্নত বাড়তে থাকে। এ সময় আরামদায়ক ঢিলেঢালা কাপড় পরবেন।
* ৰুধা বাড়তে পারে, বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খাবেন। স্বাভাবিক ও সহজে হজমযোগ্য সুষম খাবার খাওয়াই শ্রেয়। তেলযুক্ত, ভাজাপোড়া খাবার বর্জন করম্নন।
* শাকসবজি, ফলমূল বেশি খাবেন।
* ছোট মাছ, হাড় বেশি খাবেন যা এক সময় ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করবে।
* দুশ্চিনত্দা করবেন না। ভালোভাবে ঘুমাবেন।
* বাচ্চার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
* জরায়ু দিয়ে রক্ত বা পানি আসলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সাত থেকে নয় মাস
* পায়ে পানি এলে ফুলে গেলে ভয় না পেয়ে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
* আরামদায়ক কাপড় এবং জুতা পরম্নন।
* হাঁটাহাঁটি করতে পারেন কিন্তু ভারী কাজ করা যাবে না।
* রক্তের গ্রম্নপ করিয়ে নিন এবং আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবদের রক্তের সঙ্গে গ্রম্নপ ম্যাচিং করিয়ে নিন যেন প্রয়োজনে রক্ত সহজলভ্য হয়।
* আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রসবব্যথা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আপনার করণীয় নিশ্চিত করম্নন।
* কোথায় ডেলিভারি করাবেন* প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র তৈরি রাখবেন আপনার ডাক্তারই এ ব্যাপারে আপনাকে পরামর্শ দেবেন।
* তলপেটে ব্যথা, শক্ত হওয়া, কোমড় ব্যথা, বারবার ব্যথা ওঠা, রক্ত মিশ্রিত স্রাব বের হওয়া প্রসব বেদনার লৰণ।
আরো কিছু করণীয়
* স্বাভাবিক কাজ করা যায় কিন্তু কাপড় কাঁচা, ঘর মোছা, ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন।
* প্রথম তিন মাস এবং শেষ ১ মাস ঝাঁকি বেশি হয় এমনকি ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
* প্রথম তিন মাস এবং শেষের ১ মাস সহবাস না করা ভালো।
* ডাক্তারের পরামর্শে টিটেনাস ইনজেকশন নিয়ে হবে।
* গর্ভাবস্থায় অনত্দত ৪ বার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চেকআপ করাবেন (১৬, ২৮, ৩২ এবং ৩৬ সপ্তাহ)।
পরিশেষে বলতে হয়, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও গর্ভবতী মহিলার যত্ন নেয়া প্রয়োজন। সবার সহযোগিতায় গর্ভবতী নারীর নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হয়।

গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক গাইনি বিভাগ, বারডেম, শাহবাগ, ঢাকা
 
( লেখাটি পড়া হয়েছে ১৬০৩ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নরাজনৈতিক সমঝোতা না হলে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়বে_ মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইয়ের এই বক্তব্য কি যথার্থ মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin